দেশ ও গণতন্ত্র গভীর সংকটে: নজরুল

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

দেশ ও গণতন্ত্র গভীর সংকটে: নজরুল

 প্রকাশিত: ২১:১৯ ৬ জুন ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশ ও গণতন্ত্র আজ গভীর সংকটে নিপতিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দেশের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। গণতন্ত্র শেষ, বিচার বিভাগ শেষ, পার্লামেন্ট আগে থেকেই নেই। শেয়ারবাজার, ব্যাংক লুট করেছে। এসবের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন করছিলেন বলেই তাকে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে। একটি পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দী তিনি। সে কারাগারে আর কোনো কয়েদি নেই। তিনি অসুস্থ। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার সুপারিশ করেছিলো ডাক্তাররা। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। চিকিৎসা দেয়া হয়নি।

বুধবার নয়াপল্টনস্থ হোটেল সীগালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যদি করা না হয় তাহলে তিনি প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন, দৃষ্টিহীন হয়ে যেতে পারেন। সরকার চায় তিনি পঙ্গু হয়ে যাক, দৃষ্টিহীন হয়ে যাক।

দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে চলমান ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’র বিরুদ্ধে জনপ্রিতরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দুঃশাসন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। এই অভিযানকে আমরা শুরু থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছি।

তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত এইসব হত্যার পেছনে ভিন্ন কারণ আছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এর টার্গেট, সে উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের কমিশনার একরাম সাহেবকে হত্যা করা হলো। এলাকার সবাই বলছেন তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। প্রকাশিত অডিও প্রমাণ করে যে মাদকবিরোধী এই অভিযান সরকার ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করছে। এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলতে পারে না। আমরা কি কোনো জংলি দেশে আছি নাকি? এর বিরুদ্ধে রুখে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

ট্র্যাফিক সিস্টেম থেকে শুরু করে দেশের সবকিছুতে অচল অবস্থা করা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। সুশাসন বলতে দেশে আজ কিছু নেই। যে কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ আজ। কেউ কোথাও বিচার পায় না। না আদালতে, না অন্য কোথাও।

জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা মনছুরুল হাসান রায়পুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- দলের মহাসচিব মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, মহানগর সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মুসলিম লীগের মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, পিপলস লীগ মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, খেলাফত মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব মুহম্মদ শফিউল্লাহ, লেবার পার্টি (একাংশ) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, (অপরাংশ) চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরী, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, জাগপা যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, ইসলামী ঐক্যজোট যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শওকত আমীন প্রমুখ ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়।

ইফতারের পূর্বে দেশ-জাতি, বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করে দলের সহ-সভাপতি মুফতী গোলাম রহমান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics