দেশ এখন নির্বাচনী ট্রেনে

ঢাকা, সোমবার   ০১ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

দেশ এখন নির্বাচনী ট্রেনে

 প্রকাশিত: ১৩:১২ ২০ মে ২০১৮   আপডেট: ১৬:১৪ ২৪ মে ২০১৮

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক  ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

কারো সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়, দেশ এখন নির্বাচনী ট্রেনে। মানুষ জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের অপেক্ষায়। আর নির্বাচন কমিশন পালন করবে সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার বা আওয়ামী লীগের কিছু করার বা বলার কোনো সুযোগ নেই। যারা আসবে, তাদের নিয়েই ভোটের আয়োজন করবে ইসি। কেউ যদি মনে করে, সরকার দাওয়াত দিয়ে নির্বাচনে আনবে, তাহলে বলতে হয়  ভুল করছে তারা। এমন অনেক সোজাসাপ্টা কথা বললেন কুমিল্লার জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক।

ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক অনেক কথার ফাঁকে তিনি অভিযোগ করেন  বিএনপি এখন একটি সন্ত্রাসী-জঙ্গি দলে পরিণত হয়েছে। তারা ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে আছেন বলেই দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে।

কুমিল্লার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা কর্মীবান্ধব রাজনীতিবিদের নাম মুজিবুল হক। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্ম তার। তিনি নিজেকে মন্ত্রী পরিচয় থেকেও কৃষকের সন্তান পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি আগাগোড়াই একজন সার্বক্ষণিক রাজনীতিক। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে রয়েছে তার সুখ্যাতি। চৌদ্দগ্রাম থেকে একাধিকবার এমপি হয়েছেন তিনি। সংসদের হুইপও ছিলেন। ২০১৪ সালে নির্বাচনীকালীন সরকারের রেলপথ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন মুজিবুল হক। তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো একজন পূর্ণমন্ত্রী হয়েও নিজের সেলফোনটি নিজেই রিসিভ করেন। আর তার বাসায় নেতাকর্মী কিংবা যে কোনো শ্রেণির লোক গিয়ে খালি মুখে ফিরে এসেছেন এমন ঘটনা বিরল।

জাতীয় রাজনীতি, একাদশ সংসদ নির্বাচন আর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পাঁচ বছরের সাফল্য- ব্যর্থতার অনেক কথা উঠে আসে তার আলাপনে।

ডেইলি বাংলাদেশ: রেলপথ মন্ত্রী হিসেবে ৫ বছরের মেয়াদ প্রায় শেষের পথে, কেমন অনুভূতি আপনার সাফল্য বা ব্যর্থতায়?

মো. মুজিবুল হক: আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সার্বিক নির্দেশনায় বর্তমান সরকারের আমলে রেলপথে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা এক কথায়- অভূতপূর্ব। আগে রেলপথ ছিল অবহেলিত। অতীতে এক দিনে ১৩ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, রেলপথকে ধ্বংস করা। ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনা রেলের প্রতি সুনজর দেন। ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেন।

বর্তমান রেলে ৪৪টি প্রকল্প রয়েছে। বহু নতুন নতুন রেল লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন- ঢাকা-চট্রগ্রাম ডাবল লাইন, খুলনা- মংলা নতুন লাইন, ইশ্বরদী-পাবনা হয়ে ঢালারচর, কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ ডাবল লাইন, কুলাউড়া-শাহবাজপুর, আখাউড়া-আগরতলা, দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। ঢাকা-টঙ্গি থার্ড লাইন ও ফোর্থ লাইনের কাজও চলমান। আর রেলের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো- পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে গত এপ্রিলে ঋণ চুক্তি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুতে সংযুক্ত প্যারালাল আরো একটি ‘বঙ্গবন্ধু রেল সেতু’ নির্মাণ করা হবে। চট্রগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাটে রোড কাম রেল সেতু নির্মাণ করা হবে।

সুতরাং রেলপথ মন্ত্রী হিসেবে আমি বা আমার সরকার সফল না ব্যর্থ- বিচারের ভার দেশের জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম।

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের সময় রেলের বহু ইঞ্জিন ও কোচ আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। তখন রেলের সাময়িক কিছু ক্ষতি হলেও প্রধানমন্ত্রীর সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে আমরা দ্রুত সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হই।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনি কি মনে করেন রেলপথে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ?

মো. মুজিবুল হক:  অবশ্যই। কারণ, বিএনপি-জামায়াতে হঠকারী আন্দোলন আমাদের কর্মযজ্ঞে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও, আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সফল নেতৃত্বে বিএনপির তথাকথিত আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। আর আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে  এগিয়েছি, সফলও হয়েছি।

রেলপথে ব্যাপক  অগ্রগতি ও উন্নতি  হয়েছে বলেই রেলপথের যাত্রীরা মনের মত সেবা পাচ্ছে। রেলে যাত্রীদের সঠিক সেবা দিতে পারায়, আমি দায়িত্ব পালনে সফল হয়েছি বলে মনে করি। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আগামী নির্বাচনে ভোটাররা অবশ্যই নৌকার পক্ষে রায় দেবে।

ডেইলি বাংলাদেশঃ আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে সরকারের  সংলাপের সম্ভাবনা আছে কি ?

মো. মুজিবুল হক:  আমার মতে, বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংলাপ হবে না। হতেও পারে না। কারণ, বিএনপির কাঁধে স্বাধীনতাবিরোধী জাতায়াত-শিবির ভর করে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী নির্বাচন সব দলকে নিয়ে করতে চান। তাহলে সংলাপ ছাড়া তো মনে হয় বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। এক্ষেত্রে বড় ওই দলটি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে আশা করা যায় ?

মোঃ মুজিবুল হক: বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের সব দলকে নিয়েই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে নির্বাচন আটকে থাকবে না। দেশের প্রচলিত আইনে সংবিধান অনুসারে কমিশন নির্বাচন করবেন। কে নির্বাচনে এলো কিংবা এলো না, তা দেখার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ: বিএনপি দাবি করছে, সরকারের হস্তক্ষেপেই আদালত খালেদা জিয়াকে ভিত্তিহীন মামলায় জেলে দিয়েছেন- একজন আইন প্রনেতা হিসেবে বিষয়টি কিভাবে দেখছেন ?

মোঃ মুজিবুল হক: বিএনপি একটি অগণতান্ত্রিক দল। ক্ষমতায় থেকে বন্দুকের জোরে দলটি গঠন হয়েছে। তৃণমূল থেকে বিএনপি গঠন হয়নি। তারা গায়ের জোরে কথা বলে। যুক্তি, আইন, সংবিধান তারা মানে না। আদালত বছরের পর বছর শুনানি করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ মামলার রায় দিয়েছেন। আদালত শতভাগ স্বাধীন। সুতরাং বিএনপির মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা আমলে নেয়ার সুযোগ নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ: আগামী নির্বাচনে আপনি জয়লাভ করার ব্যাপারে  কতটা আশাবাদী।

মোঃ মুজিবুল হক: ইনশাআল্লাহ্ জয়লাভ করবো। কারণ জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার বাইয়ে দিয়েছেন। তার এই উন্নয়ন মিশনকে আমি নির্বাচনী এলাকায় শতভাগ কাজে লাগিয়েছি। গ্রামে-গ্রামে, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে নির্বাচনী এলাকার জনগনের কাছে উন্নয়ন সেবা পৌঁছে দিয়েছি। নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে এবং এলাকার জনগণ ঢাকায় গেলে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। সাধ্য অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় কাজ ও দাবিগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ সরল মনের অধিকারী। তাদের জন্য কিছু করলে তারা অবশ্যই এর প্রতিদান দেন। অতএব, আল্লাহর রহমতে আমি অবশ্যই নৌকা মার্কার প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করবো। পাশাপাশি আমার নির্বাচনী এলাকার আশপাশের আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাও যাতে জয়লাভ করতে পারেন, তাদের জন্যও আমি কাজ করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

মো. মুজিবুল হক :  আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে ডেইলি বাংলাদেশের সব পাঠককেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এলকে