Alexa দেশে নতুন মাদক ‘এনপিএস’

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

দেশে নতুন মাদক ‘এনপিএস’

 প্রকাশিত: ১৯:১৯ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:৫৭ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নিউ সাইকোট্রফিক সাবস্ট্যানসেস ‘এনপিএস’। দেশে মাদকের রাজ্যে নতুন নাম। দেখতে অনেকটা ‘চা’ পাতার গুঁড়োর মতো। পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে সেবন করতে হয় এটি। এনপিএস মানবদেহে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়া হয় এতে। জানা গেছে, এক ধরনের গাছ থেকে তৈরি হয়ে থাকে নতুন এই মাদক। 

শুক্রবার বিকেলে ও রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ ও শান্তিনগর থেকে প্রায় ৯শ কেজি ‘এনপিএস’ উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) সদস্যরা। অভিযানের পর এই প্রথম নতুন এ মাদকের সঙ্গে পরিচত হল বাংলাদেশ। 

ডিএনসি’র অভিযানে এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় আটক করা হয় নাজিম নামে এক ব্যক্তিকে। ডিএনসি জানায়, নাজিম এ চালানের মালিক ও আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য। এসব মাদক বাইরে থেকে আনার পর, পুনরায় প্যাকেট করে পাঠানো হতো ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে। 

ডিএনসির সহকারী পরিচালক মো. খুরশিদ আলম চঞ্চল ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, এটি ‘খ’ ক্যাটাগরির মাদক। দেখতে অনেকটা ‘গ্রিন টি’র মতো। এর চালান দেশে আনার পর আবার পাঠানো হতো ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিমের কাছ থেকে উপরোক্ত তথ্য জানা গেছে। ডিএনসির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদারের নেতৃত্বে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের গুদাম ও শান্তিনগর থেকে নতুন মাদকের বড় এ চালানটি আটক করা হয়। 

ডিএনসি জানায়, আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী একটি সংস্থা ডিএনসিকে তথ্য দিয়েছিল, ইথিওপিয়া থেকে ২৭ আগস্ট কার্গো বিমানে এ ধরণের মাদকের চালান বাংলাদেশে আসবে। তথ্যটি পাওয়ার পর সতর্ক অবস্থান নেয় ডিএনসি কর্মকর্তারা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ৪৬৬ কেজি ওজনের নতুন মাদকের চালান জব্দ করা হয়। এ সময় বিমানবন্দরে চালানটি গ্রহণ করতে গিয়ে আটক হয় নাজিম। এরপর তাকে নিয়ে নগরীর শান্তিনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় নওশিন এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় আরো ৪শ’ কেজি এনপিএস। এর আগে আরো দু’বার এ ধরনের মাদকের চালান দেশে আনার পর বাইরে পাচার হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি আরো জানান, এনপিএসের চালানটি আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবার জিয়াদ মোহাম্মাদ নামের এক ব্যক্তি এটিকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। নওশিন এন্টারপ্রাইজের নামে চালানটি বাংলাদেশে ঢুকেছে।  

খুরশিদ আলম আরো জানান, নাজিম প্রতি ২শ’ কেজি মাদক ৮শ’ ডলারের চুক্তিতে আমেরিকা, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কার্গোর মাধ্যমে পাঠায়। যদিও নাজিম দাবি করছে, এগুলো চা বলে সে জানতো। এগুলো যে মাদক হিসেবে ব্যবহার হয়, সেটা তার জানা ছিল না। নাজিম আরো জানায়, যিনি মাদকের চালানটি পাঠাতেন, তিনি বলে দিতেন কোথায় পাঠাতে হবে। আটককৃত চালানটি আমেরিকায় পাঠানোর কথা ছিল।

খুরশিদ আলম বলেন, নতুন এই মাদক ইয়াবার মতো কাজ করলেও  এটা গ্রীন টির মতো প্যাকেটে আনা হয়। তিনি জানান, মাদকটি আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ডিএনসি’র রাসায়নিক পরীক্ষক আবু হাসান বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে এ ধরনের মাদক সেবনের কথা শোনা যায়। এটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক। এখানে ক্যাথিনিন জাতীয় পদার্থ থাকে। যা ইয়াবার মিথাইন এমফিটামিনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, সাধারণত যৌন আকাঙ্খা বাড়াতে এবং রাত জেগে থাকতে এ মাদক সেবন করা হয়। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে বলেও জানান রাসায়নিক পরীক্ষক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এলকে/আরআই