দেশে দেশে ইফতার সংস্কৃতি

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

দেশে দেশে ইফতার সংস্কৃতি

হাবীবুল্লাহ সিরাজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৯ ১৯ মে ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখন এক সঙ্গে পালন করছে সওম সাধনার মাস রমজানুল মোবারক। 

তবে স্থানের পার্থক্যের কারণে কেউ আট ঘণ্টায় রোজা শেষ করছে, কেউ আবার ২২ ঘণ্টাও রাখছে। যে যতক্ষণ রাখুক না কেন, ইফতার কিন্তু সকলেই করে। শুধু করে না, এটাকে উদযাপনও করে। 

আমাদের দেশসহ ভিন্ন দেশেগুলোতে ইফতারে কী কী পছন্দ আজকে আমরা জানবো-

বাংলাদেশ:
খেজুর, পিঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, আলুর চপ, জিলাপি, শরবত, মুড়ি ও ছোলা ছাড়া বাংলাদেশের ইফতারই জমে না। কখনো কখনো এর সাথে পরোটা, মিষ্টি, ফল, খিচুড়ি, ও চিড়ার উপস্থিতিও পাওয়া যায়।

পাকিস্তান:
আমাদের মতোই পাকিস্তানীরা। তাদের ইফতারে যেসব খাদ্যের আধিক্য দেখা যায়- খেজুর, পানি, চিকেন রোল, স্প্রিং রোল, শামি কাবাব এবং ফলের সালাদের পাশাপাশি মিষ্টি ও ঝাল জাতীয় খাদ্য, জিলাপি ও সমুচা, নিমকি।

লেবানন:
লেবাননীয় ইফতারে থাকে গোসতের কাবাব। আলুর তৈরি ভিন্ন জাতের খাবার। 

আলজেরিয়া:
আলজেরিয়ানরা তাদের ইফতারে খেজুরের সঙ্গে রাখে শরবত ও পনির। তবে গোসতের ইফতারও থাকে প্রচুর। 

ডর্জান:
ডর্জান মুসলমানদের ইফতারে থাকে বিভিন্ন প্রকারের রুটি সঙ্গে পনির ও হালুয়া। খেজুরও তাদের প্রধান ইফতার। 

সোমালিয়া:
সোমালিয়ার ইফতারে থাকে স্থানীয় একধরণের খাবার যা মাছ দিয়ে তৈরি হয়। খেজুর কাবাব পনিরও থাকে। 

ফিলিস্তিন:
ফিলিস্তিনিদের ইফতার আমাদের মতোই। তবে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পানীয় তামারিন জুস তাদের প্রধান ইফতারে থাকে। 

মিসর:
কুনাফা ও কাতায়েফ হলো মিসরীদের ইফতারে প্রথম পছন্দ। তবে আটা, চিনি, মধু ও বাদাম দিয়ে তৈরি খাবারও থাকে। 

সৌদি আরব:
সৌদিআরবের ইফতার মানেই শাহি ইফতার। খেজুর দেশ সৌদি। ইফাতারের প্রথম পছন্দও খেজুর। তবে এছাড়াও ইফতারের তালিকায় থাকে কুনাফা, ত্রোম্বা, বাছবুচান্ডর নামক নানা রকম হালুয়া, সালাতা (সালাদ), সরবা (স্যুপ), জাবাদি (দই), লাবান, খবুজ (ভারী ছোট রুটি) বা তমিজ (বড় রুটি)। তারা একত্রে একসঙ্গে ইফতার করতে পছন্দ করেন। 

ইরান:
আপনি যেমন ইফতারের শুরুতে ঠাণ্ডা পানি পান করেন- ইরানীরা করে  চায়ে (চা) পান। অবাক হওয়ার কিছু নেই। লেভাস বা বারবারি নামের এক ধরনের সুস্বাদু রুটি, পনির, তাজা ভেষজ উদ্ভিদ, মিষ্টি, খেজুর ও হালুয়াও থাকে।

দুবাই:
অর্থ আর অলঙ্কারের দেশ দুবাই। তাদের ইফতারে থাকে দামি দামি গোসতের তৈরি খাবার। গোসতের সঙ্গে রুটি মসুর ডাল ও বিভিন্ন প্রকার সালাত। দুবাইবাসী ইফতারে গোসতের প্রাধান্য থাকে। তাদের ইফতার বহুক্ষণ চলে। এটাই রাতের খাবারে পরিণত হয়। 

মস্কো:
সাগর পাড়ের দেশ মস্কো। দেশটিতে ইফতারের প্রথম তালিকায় আছে খেজুর, স্যুপ, রুটি। তবে এছাড়াও ভিন্ন হাতে তৈরি খাবার থাকে। 

সিরিয়া:
হালুয়া হলো সিরিয়ার ইফাতারে সবচেয়ে প্রিয় খাবার। হালুয়ার জন্য সারাবিশ্বে সিরিয়ার ভিন্ন একটি সুনাম রয়েছে। প্রায় হাজার প্রকারের হালুয়া থাকে সিরিয়ার বাজারে বাজারে। ঘরেও তৈরি হয়। ইফতারের হালুয়াতে থাকে মধু ও খেজুর। স্থানীয়দের তৈরি দিজাজ সয়াইয়া খবুজ সরবাও থাকে। 

তুরস্ক:
কাবারে আদিবাড়ী নাকি তুরস্ক। তাই তুর্কি তাদের ইফতারের প্রধান তালিকায় রাখেন হরেক জাতীয় কাবাব। তবে শরবতের উপস্থিতিও উল্লেখ করার মতো। 

মালয়েশিয়া:
আখের জন্য নাকি মালয়েশিয়া বিখ্যাত তাই তাদের ইফতারে থাকে আখের রস। আরো থাকে সয়াবিন মিল্ক খান, যাকে তাদের ভাষায় বারবুকা পুয়াসা বলা হয়। লেমাক লাঞ্জা, আয়াম পেরিক, নাসি আয়াম, পপিয়া বানাস ও অন্যান্য খাবারও থাকে পর্যাপ্ত। 

আমেরিকা:
আমরিকা ইফতারিতে আরবীয় স্টাইল। যেমন- খেজুর, খুরমা, সালাদ, পনির বাধ্যতামূলক। তবে রুটি, ডিম, মাংস, ইয়োগার্ট, হট বিনস, স্যুপ, চা ইত্যাদিও থাকে।

অস্ট্রেলিয়া:
অস্ট্রেলিয়া যা দিয়ে ইফতার করে আমরা এগুলো মাঝে মাঝে খাই। স্যান্ডউইচ, পনির, মাখন, দুগ্ধজাতীয় খাবার, নানাবিধ ফল ও ফলের রস খাওয়া হয়। 

দক্ষিণ কোরিয়া:
এখানকার মুসলমানরা নুডলস, স্যুপ, ফলের রস, বিভিন্ন প্রকারের ফলফলাদি খেয়ে থাকেন।

পর্তুগাল:
পাস্টার দি নাতা (এক প্রকার কেক) ও সারডিন মাছের কোপ্তা বেশ পছন্দ করেন তারা। এ ছাড়া রয়েছে প্রেগোরোজ, ট্রিনচেডো, প্রাউজ (চিংড়ি), স্প্রিং গ্রিল ও স্যুপ।

ভারত:
বন্দুপ্রতীম রাষ্ট্র ভারত। খেজুর, হালিম ও তামিল নাড়ু দিয়ে ইফতার করে ভারতে। পাতের পাশে থাকে ভাত, খাসির মাংস, সবজি ও মসলা দিয়ে তৈরি হরেক রকম খাবার। 

ব্রিটেন:
বৃটিনের ইফতারিতে আহামরির কিছু নেই। কিছু আছে দেখুন- খেজুর, ফল, স্যুপ, জুস, রুটি, ডিম, মাংস, চা-কফি দিয়ে ইফতার করেন বৃটিনিরা। 

ইতালি:
ইতালির ইফতারিতে ইউরোপীয় খাবার স্টাইল। যেমন- বার্গারজাতীয় খাদ্য, মাল্টা, আপেল, আঙুর, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি। 

কানাডা:
কানাডীয় মুসলমানরা সাধারণত খেজুর খুরমা পনির সালাদ বিভিন্ন স্যুপ ইফতারিতে ব্যবহার করে। 

স্পেন:
ফুটবলের দেশ বলা হয় স্পেনকে। স্প্যানিশ মুসলমানরা ইফতার করেন হালাল শরমা, ডোনার কাবাব, হামাস (যা তেরি করা হয় ছোলা, তিল, জলপাই তেল, লেবু, রসুন ইত্যাদি দিয়ে। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের খাবার), লাম্ব কোফতা, আলা তুরকা, পাইন অ্যাপেল, টমেটো সালাদ।

জাপান:
এ দেশের মুসলমানদের ইফতারি আইটেমে রয়েছে জুস, স্যুপ ও মাশি মালফুফ, যা আঙুর, বাঁধাকপির পাতা ও চাল মিশিয়ে বানানো হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে