দেশে করোনার জিন-নকশা উন্মোচনকারীকে ‘নায়ক’ মানেন বিল গেটস

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

দেশে করোনার জিন-নকশা উন্মোচনকারীকে ‘নায়ক’ মানেন বিল গেটস

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৪৫ ১৪ মে ২০২০   আপডেট: ১১:৩১ ১৪ মে ২০২০

সমীর সাহা ও তার মেয়ে সেঁজুতি, ইনসেটে বিল গেটস

সমীর সাহা ও তার মেয়ে সেঁজুতি, ইনসেটে বিল গেটস

জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্যের নকশাই হলো জিনোম। বংশগতির সব বৈশিষ্ট্যই এক বা একাধিক জিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের তথ্য জানার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো জিন–নকশা উন্মোচন। এ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কৌশল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। দেশে করোনাভাইরাসের জিন–নকশা উন্মোচন করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।

বিল গেটসকে চেনেন?—অবশ্য এটা বোকার মতো প্রশ্ন! তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা। এই মানুষটির অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস হচ্ছেন অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। বিল গেটসের ব্যক্তিগত ব্লগ ‘গেটসনোটস’-এ গত জানুয়ারিতে সেজুতিকে নিয়ে তিনি লিখেছেনও। সেজুতির বাবা ড. সমীর কুমার সাহার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

নিজেদের গবেষণার মাধ্যমে বাবা–মেয়ে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ যদি রোগ প্রতিরোধে আরো বেশি কিছু করতে পারে, তবে প্রতিরোধ করা যায় এমন সব অসুস্থতার দিকে আরো মনোযোগ দেয়ার জন্য তার সম্পদ কাজে লাগাতে পারবে। সমীর ও সেঁজুতির কাজের কল্যাণে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি কমে আসবে। আর চিকিৎসার জন্য খালি থাকবে হাসপাতালের শয্যা।—এমনটাই নিজের ব্লগে লিখেছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা।

বিল গেটস গত বুধবার ফের ‘গেটসনোটস’-এ লেখেন, দু’জনে আবারও প্রমাণ করলেন তারা সেরা। করোনাভাইরাস তার চরিত্র (জিনোম) পাল্টায়, এ নিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশের বিজ্ঞানীরা যেসময় উন্নত ল্যাবে গবেষণামগ্ন; তখন বাংলাদেশের চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সমীর ও সেজুঁতির নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী জিনোম সিকোয়েন্সের রহস্য উদঘাটন করে জার্মানীর গ্লোবাল ইনিসিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটার (জিআইএসএইড) কাছে তথ্য জমা দিয়েছেন। আমি সবসময় উনাদের পাশে আছি। তারা সারা বিশ্বের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা লেখেন, বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি এ দুজন। শিশুমৃত্যু বেশি বিশ্বের এমন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পদশালী দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে কাজ করছেন বাবা-মেয়ে। এ ক্ষেত্রে তারা উপাত্ত, রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে টিকাদানকে কাজে লাগাচ্ছেন। তাদের গবেষণা শুধু বাংলাদেশেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং একই রকম স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। অপরদিকে মস্তিষ্কঝিল্লির প্রদাহজনিত রোগ হলো মেনিনজাইটিস। নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিস রোগের জীবাণু হলো ‘নিউমোকক্কাস'। ঠিক কোন ধরনের নিউমোকক্কাস দ্বারা নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিস হয়, দল গঠন করে ২০ বছরে তা খুঁজে বের করেন সমীর সাহা।

এসব ভ্যাকসিন যাতে বিনামূল্যে বাংলাদেশের শিশুরা পেতে পারে সে জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও বক্তব্য দেন সমীর সাহা। একপর্যায়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘সর্বদলীয় নিউমোকক্কাস কমিটি’ হয়। এই সংস্থার কিছু সদস্য বাংলাদেশেও আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে এ দেশে নিউমোকক্কাস ভ্যাকসিনের যাত্রা শুরু হয়। তারই স্বীকৃতি ইউনেস্কোর কার্লোস জে. ফিনলে পুরস্কার।

এদিকে জিআইএসএইডের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, দেশে করোনাভাইরাসের জিন–নকশার সিকোয়েন্সটি জমা দিয়েছেন সেঁজুতি সাহা। এই গবেষণায় তার সঙ্গী ছিলেন রলি মালাকার, সাইফুল ইসলাম সজীব, হাসানুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, শাহিদুল ইসলাম, জাবেদ বি আহমেদ ও মাকসুদ ইসলাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে