দেশের মাটিতে মাশরাফির শেষ ম্যাচ

ঢাকা, সোমবার   ২৭ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৬,   ২১ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

দেশের মাটিতে মাশরাফির শেষ ম্যাচ

মুনিম হাসান

 প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:২১ ৯ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ দেড় যুগ বাংলাদেশের বোলিং শুরু হয়েছে কলার উঁচিয়ে দৌড়ানো এক যোদ্ধার হাত ধরে। যার দৌড়ের প্রতিটি পদক্ষেপে সমর্থকদের হৃদয় বাঁধা থেকেছে। কত অজস্র স্মৃতিময় জয় এনে দেয়া সেই দৌড় শেষবারের মতো ঘটতে যাচ্ছে দেশের মাটিতে। তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের নেতা, আইডল ও ওয়ানডে দলপতি।

আগামী বছর ২০১৯ বিশ্বকাপ শেষে অবসরে যেতে পারেন দেশের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক। সোমবার সংবাদ সম্মেলনেও তেমন আভাসই দিয়েছেন তিনি। আর তা যদি হয় তবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলবেন মাশরাফি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর বাংলাদেশ যাবে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের আর কোনো খেলা নেই। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মাধ্যমে দেশে সবশেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন দেশের কিংবদন্তী পেসার। ফলে মিরপুর বা চট্টগ্রাম বা সিলেটের চেনাজানা স্টেডিয়ামে দেখা যাবে না জার্সির কলার উঁচু করে দৌড়ানো আদরের পাগলাকে। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মাশরাফি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি মিরপুরে মাশরাফির শেষ ম্যাচ। যেখানে সমর্থকদের জন্য কতই না স্মৃতি গড়েছেন তিনি। অন্যদিকে সিলেটে তৃতীয় ম্যাচটি দেশের মাটিতে খেলা শেষ ম্যাচ হয়ে উঠবে মাশরাফির।

তবে সোমবার মাশরাফি সংবাদসম্মেলনে ২০১৯ এর পরেই যে অবসর নেবেন তা নিশ্চিত না করলেও কিছুটা হয়তো-যদি শব্দযুগল রেখে দিয়েছেন। আর শেষ পর্যন্ত যদি বিশ্বকাপের পরেও মাশরাফি খেলেন তবে আরো দুই-একবার হয়তো দেখাও যেতে পারে দেশের পেসারদের আইডলকে।

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাশরাফির। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় এই কিংবদন্তীর। ক্যারিয়ারের শুরুতে ঘণ্টায় ১৪০-১৪৫ কিলোমিটার বেগে বল করে দেশজুড়েই আলোড়ন তৈরি করেন তিনি। কেননা, এতো জোরে বল বাংলাদেশ তো বটেই খোদ ভারতেও ছিল না।

কিন্তু একের পর এক ইনজুরিতে পড়ে ক্যারিয়ারে অনেকখানি পিছিয়ে পড়েন মাশরাফি। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা, আবেগ ও হার না মানা মানসিকতার মাধ্যমে বারবার ফিরে আসেন। এর মধ্যে সাতবার করে দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করেন তিনি। সাধারণত এতবার অস্ত্রোপচারের টেবিলে গেলে কোনো অধিকাংশ পেসাররাই অবসর নিয়ে ফেলেন। কিন্তু মাশরাফি বারবার ফিরে এসেছেন। আগের মতো পেস দিতে না পারলেও নিখুঁত লাইন লেন্থ নির্ভর বল করে তরুণ পেসারদের সঙ্গে টেক্কা দিয়েও দেশের সেরা পেসার তিনিই। এছাড়া সর্বোচ্চ উইকেট শিকার এবং সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল বোলারও তিনি।

 ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন একের পর এক পরাজয়ে বিধবস্ত তখন তৃতীয়বারের মতো আবারো দলের হাল ধরেন মাশরাফি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮ সালে দলের অধিনায়কত্ব পান মাশরাফি। কিন্তু অভিষেক অধিনায়কত্বের ম্যাচেই ভয়াবহ ইনজুরিতে পড়ে ৬ মাস খেলা থেকে ছিটকে যান তিনি। এরপর আবার ফেরেন কিন্তু সেবারও প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে। আবার ছিটকে যান। খেলতে পারেননি দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ।সংবাদসম্মেলনে কান্না চেপে রাখতে পারেননি সেদিন।

২০১৪ সালের শেষের দিকে অধিনায়ক হন আবারো। তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল না কখনই। কিন্তু ইনজুরির কারণে তা বঞ্চিত হচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কতটা বঞ্চিত বাংলাদেশ? দেখিয়ে দিলেন তিনি। মানসিকভাবে বিধবস্ত এক দলকে নিয়ে ধবল ধোলাই করলেন জিম্বাবুয়েকে। সেই জয় নিয়ে গেলেন ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু তাতেও দলের অবস্থা কি সর্বোচ্চ বোঝা যায়? প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে হেরে আবারো যেন দুম করে মাটিতে বাংলাদেশ। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে দাঁড়াল মাশরাফির উজ্জীবনায়। আফগানিস্তানকে হারিয়ে শুরু। এরপর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ শেষে নতুন ভাবনার বাংলাদেশ দেখে বিশ্ব যার নেতৃত্বে মাশরাফি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছাড়া এক দুর্দান্ত দলকে দেখতে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্ব। একে একে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সবাইকে হারিয়ে নতুন এক বাংলাদেশের উত্থান দেখা যায়। ২০১৫ এর পর এশিয়া কাপের ফাইনালের ওঠে ২ বার। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সেমিফাইনালেও ওঠে বাংলাদেশ। অর্থাৎ একেবারে নতুন এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট।

কিছুদিন আগে যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। ২০১৪ সালে এক অন্ধকারচ্ছন্ন ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন এক ক্রিকেট পরাশক্তির উত্থান দেখিয়েছিলেন মাশরাফি। এবারে রাজনীতির মাঠেও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নতুন এক পালাবদলের রূপকার হবেন এমন কামনা সমর্থকদের।

আরও পড়ুনঃ মাশরাফির ২০০ তে বিসিবির কেক

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ   

Best Electronics