Alexa দেশের প্রযুক্তি পণ্যে ব্র্যান্ডিংয়ে জোর দেয়ার দাবি বিআইজেএফের

ঢাকা, বুধবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৫ ১৪২৬,   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

দেশের প্রযুক্তি পণ্যে ব্র্যান্ডিংয়ে জোর দেয়ার দাবি বিআইজেএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

২০২১ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যথাযথ পরিকল্পনা ও রূপরেখা তৈরি করে না এগোলে তা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন আইসিটি বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ‘বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন প্রযুক্তি বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা।

২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিনটিকেই বর্তমান সরকার 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' হিসেবে উদযাপন করছে। এ লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগ আদালাভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

বিআইজেএফ’র সভাপতি মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি এ ইউ খান জুয়েল, ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, দৈনিক প্রথম আলো’র ডেপুটি ফিচার এডিটর পল্লব মোহাইমেন প্রমুখ।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ১১ বছর পেরিয়ে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকেও ডিজিটাল উন্নয়ন স্পর্শ করেছে। বাজেটে দিন দিন এই খাতের বরাদ্দ বাড়লেও এটা খরচে এখনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়নি।

বিআইজেএফ’র সহ সভাপতি নাজনিন নাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও রূপরেখা তৈরি করা না হলে ২০২১ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। একইসঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার ব্র্যান্ডিংয়ে জোর দেয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পেশাদার প্রশিক্ষণ জোরদার করতে হবে। তা না হলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যহত হবে বলে মনে করেন এই বিটের সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠানে বিআইজেএফ সভাপতি মোজাহেদুল ইসলাম বলেন,  বিশ্বের ৬৭টি দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা রপ্তানি হচ্ছে। এক বিলিয়ন ডলার এ খাত থেকে রফতানি আয় আসছে। তবে ২০২১ সালের মধ্যে এ খাত থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চায় সরকার। এ জন্য দেশে ২৮টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। তবে এসব পার্ক স্বল্প পরিসরে চালু হয়েছে। এসব পার্কে দ্রুত উৎপাদনশীল কার্যক্রম চালু করতে হবে। তা না হলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে বাংলাদেশ যথাসময়ে পৌঁছাতে পারবে না।

সভায় মেড ইন বাংলাদেশ স্লোগান এগিয়ে নিতে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়তি সহযোগিতা দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান বিসিএস পারিচালক এ ইউ খান জুয়েল। তিনি বলেন, উৎপাদকদের মাধ্যমে ভোক্তাদের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করণে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশী কোম্পানিগুলো শুধু মুনাফাই করবে এটা হতে পারে না। তাদেরকে সেবাও নিশ্চিত করতে হবে।

ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ই-কমার্স দেশের জন্য একটি অপার সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। তাই ক্রস বডার ই-কমার্স নিয়ে এখন জোর কদমে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হলে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।

সামাজিক যোাগাযোগের মাধ্যমে ভুয়া খবর ঠোকানোর বিষয়টি পুরো বিশ্বের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবার জন্য সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও সভায় মত দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস