সাবেক তিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কীর্তিকলাপ

ঢাকা, বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭,   ১২ সফর ১৪৪২

সাবেক তিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কীর্তিকলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৮ ২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:৪২ ২ আগস্ট ২০২০

সাকা চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

সাকা চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বাংলাদেশের মানুষ খুব সহজেই অতীতের অপকর্ম, দুর্বৃত্তায়নের গল্প ভুলে যায়। স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত দেশে এখন পর্যন্ত ২৯ জন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদেরকে সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলা যায়।

দেশের বিতর্কিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মনে করা হয় বিএনপি নেতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীকে। যিনি ১৯৮৬ সালের মে মাস থেকে ৮৮ সালের জুলাই পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। এই সময়ে তিনি ডাক্তারদের জেলে দেয়া হবে, তাদের পাকড়াও করো ইত্যাদি ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং আপত্তিকর কথা বলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধের জন্য প্রস্তাবও পেশ করেছিলেন। সাকা চৌধুরীর সময় নানা কারণে বিতর্কিত ছিলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমনকি সেসময় পুরো মন্ত্রণালয় সব থেকে অস্থির অবস্থা পার করেছে বলেও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় বিতর্কিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মনে করা হয় বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফকে। তিনি স্বাস্থ্যখাতে বাণিজ্যকরণ, টেন্ডারবাজি এবং দুর্বৃত্তায়নের সূচনা করেন বলে অনেকে মনে করেন।

১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এসময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে টেন্ডারবাজি, নানারকম অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিএনপি দলীয় লোকদেরকে কাজ দেয়া, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে অনিয়ম শুরু হয়। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির গুরু মনে করা হয় চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফকে।

আরেক বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশের ইতিহাসের তৃতীয় বিতর্কিত এবং সম্ভবত সবথেকে দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একচ্ছত্র লুটপাট, দুর্নীতি শুরু করে। যেকোনো নিয়োগ-পদায়নের ক্ষেত্রে টাকা দেয়া, চিকিৎসকদের পদোন্নতির জন্যে টাকা নেয়া, সরকারি হাসপাতালের ওষুধ লোপাট করা এবং যন্ত্রপাতি কেনার নামে হরিলুটের এক রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আমলে পাঁচ বছরে যে টাকা দিয়েছিল তার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকাই লোপাট করেছিলেন তিনি এবং ড্যাবের নেতারা। 

কাজেই দুর্নীতির সূচনাকারী এবং বিকশিত করার ক্ষেত্রে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্বাস্থ্যখাতে ‘অমর’ হয়ে থাকবেন। আরেকটি কারণে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশের নিকৃষ্টতম স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের অনত্যম। সেটি হলো- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার যে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো করেছিলো, সেগুলো বন্ধ করে দেন খন্দকার মোশাররফ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে অপরিণামদর্শী এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।  

এছাড়া বিএনপি নেতা এভি এমজি তোয়াব ১৯৭৫-৭৬ এ স্বল্প মেয়াদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেসময় তিনি তেমন কিছুই করতে পারেননি। বরং তখন তার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এইচএন