‘দেশি খাবার নিতে চাই বিশ্ব দরবারে’
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=94181 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৬ ১৪২৭,   ০২ সফর ১৪৪২

‘দেশি খাবার নিতে চাই বিশ্ব দরবারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৫ ২৯ মার্চ ২০১৯  

রন্ধনশিল্পী নাজিয়া ফারহানা

রন্ধনশিল্পী নাজিয়া ফারহানা

ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর। ভালোবাসেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে, সঙ্গে মজার মজার রান্না করতেও। সেরা রাঁধুনী ১৪২৪ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন নাজিয়া ফারহানা। তিনি বর্তমানে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কুকিং পরীক্ষক। এছাড়া নিজে একটি রান্নার স্কুল পরিচালনা করছেন। ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই রন্ধনশিল্পী। কথোপকথনে ছিলেন স্বরলিপি

রান্নার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো কীভাবে?

নাজিয়া ফারহানা: রান্না শেখা হয়েছে আম্মুর কাছে। তিনিই আমার অনুপ্রেরণা। বাড়ির সদস্যদের জন্য বিকেলের নাস্তা বানাতাম। প্রশংসাও পেতাম। চেষ্টা করতাম রান্নায় নতুনত্ব যোগ করে আরো প্রশংসা পাওয়ার। প্রশংসা পেলে উৎসাহ আরো দ্বিগুণ হতো। ধীরে ধীরে রান্নার নতুন কলাকৌশল রপ্ত করার চেষ্টা শুরু করলাম। বাংলাদেশের সিদ্দিকা কবীর এবং বিদেশে গরডন রামজি আমার প্রিয় রন্ধনশিল্পী। পরোক্ষভাবে তাদের কাজ ইউটিউবে, টেলিভিশনে দেখা হয়েছি, শেখার চেষ্টাও করেছি।

রন্ধনশিল্পী হিসেবেই কী ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা ছিল?

নাজিয়া ফারহানা: সেরা রাঁধুনী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার পর ইচ্ছাটা পাকাপোক্ত হয়। এর আগে সিরিয়াসলি চিন্তা করিনি। ২০১৮ সালে সেরা রাঁধুনি নির্বাচিত হওয়া ছিল, আমার জীবনের সেরা অর্জন। কনফিডেন্স লেভেল অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিযোগিদের জন্য গ্রুমিং সেশন আর বিচারকদের রান্নার ক্লাশ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বিভিন্ন কুজিন, হাইজিন, প্লেটিং, টাইমের ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি অনেক কিছুই জানতাম না, যা ওই প্রতিযোগিতা থেকে শিখেছি। সেরা রাঁধুনীর পুরো জার্নিটা আমার কাছে স্মরণীয় অধ্যায়।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

নাজিয়া ফারহানা: আমার একটি  রান্নার স্কুল আছে শান্তা’স কুজিন নামে। সেটি পরিচালনা করছি। এই স্কুলে বিভিন্ন বয়সীরা শিক্ষা নিয়ে থাকেন। আমি তাদেরকে অনেক ধরনের রান্না শিখিয়ে থাকি, রান্নাকে তারা কীভাবে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে সেই বিষয়েও সাহায্য করা হয়। শান্তা’স কুজিন নামে আমার একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে। বর্তমানে কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের একজন কুকিং এসেসর বা পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়াও দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন রান্নার বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও ইভেন্টও করে থাকি। বাংলাদেশ ও ভারতের কলকতাভিত্তিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত রেসিপি ডেভলপের কাজ করে থাকি। এছাড়াও নিয়মিত আর্টিকেল লিখে থাকি।

রাঁধুনী-১৪২৪ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকারী নাজিয়া ফারহানাভবিষৎ পরিকল্পনা কী?

নাজিয়া ফারহানা: আমাদের দেশি অনেক বিখ্যাত রান্না আছে যা বিদেশে অন্য দেশের খাবার বলে পরিচিত। বিশ্ব দরবারে নিতে চাই দেশি খাবার। এদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চাই, সেগুলোকে বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের খাবার হিসেবে চিনবে; এটাই আমার চাওয়া। আবার অনেক ধরণের রান্না বিলুপ্ত প্রায়, সেগুলোকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে চাই। নিজে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করব, সেই অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। রেস্টুরেন্টটির শাখা ছড়িয়ে দিতে চাই দেশের বাইরেও। 

রন্ধনশিল্পকে যারা পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

নাজিয়া ফারহানা: রান্নার প্রতি যদি ভালোবাসা থাকে, রান্না বিষয়ক পেশার প্রতি যদি শ্রদ্ধা থাকে তবেই এই পেশায় আসা উচিৎ। আর এই পেশায় ভালো করতে হলে শেখা অব্যাহত রাখতে হবে। জেনে-বুঝে কাজ করতে হবে।

সফলতা জন্য কার অবদান বেশি?

নাজিয়া ফারহানা: প্রথমে আমার আম্মু। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার স্বামী আমার রান্নার সবচেয়ে বড় ক্রিটিক। সেই জন্য ত্রুটিহীন রান্না করার চেষ্টা আমার সব সময় থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে