ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ

চাঁদপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:১৭ ৭ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:১৩ ৮ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৭ অক্টোবর রোববার থেকে ২৮ অক্টোবর চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে আগামী ২২ দিন নদীতে জাল ফেলা যাবে না। 

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা, পরিবহণ, বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মা ইলিশ রক্ষায় এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আশ্বিনে ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ প্রচুর ডিম পাড়ে। চান্দ্রমাসের ভিত্তিতে প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে এ বছর আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার দিন এবং এর আগে চার ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ উপকূলীয় এলাকা থেকে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা-মেঘনায় চলে আসে। আর তখনই যদি ইলিশ ধরা বন্ধ করা যায়, ইলিশের সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সেই অনুযায়ী এ বছর ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ নদীতে ডিম পাড়তে আসে। এবছর হিসেব করে দেখা যায় ৭ অক্টোবর থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশের ডিম পাড়ার আদর্শ সময়। তাই এই ২২ দিন নদীতে মা ইলিশকে ডিম পাড়তে দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। এই সময়ে নদীতে ইলিশসহ কোনো প্রকার মাছ ধরা যাবে না। ইলিশ প্রজননের সুযোগ পেলে উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে।

চাঁদপুরের নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এরইমধ্যে নৌকাসহ মাছ ধরার সরঞ্জামাদী তীরে উঠিয়ে নিয়েছে জেলে। অবসর সময়টাতে তারা জাল সেলাই, নৌকা মেরামতসহ অন্যান্য কাজ করে থাকে। তবে এবছর এই অঞ্চলে ইলিশ মাছ তেমন একটা না পাওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে জেলেদের মাঝে। নিষিদ্ধ সময়টাতে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে পড়তে হচ্ছে সমস্যায়।

এ ব্যাপারে হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে বারেক মাঝি বলেন, সরকার নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিলে আমরা তা মেনে চলি। কিন্তু মাছ না ধরতে পারলে আমরা খাবো কি? আমাদেরকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ২৫-৩০ কেজি করে। এই বছর ইলিশ না পাওয়ায় আমাদের ঋণের বোঝা ভারি হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ পরিবার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার থেকে নগদ অর্থ সহায়তা করলে আমারেদ জন্যে অনেক উপকার হয়।

আরেক জেলে মিজান গাজী বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকৃত জেলেরা মাছ ধরে না। অধিক মুনাফার লোভে অনেক অসাধু জেলে প্রশাসনের কিছু কিছু লোককে টাকা দিয়ে নদীতে ইলিশ নিধন করে। এতে করে সরকার ঘোষিত মা ইলিশের এই অভিযান ব্যহত হচ্ছে। আমাদের দাবি নিষেধাজ্ঞার এই সময়টাতে কেউ যেন নদীতে ইলিশ ধরতে না পারে। নয়তো এই অভিযানে সফলতা আসবে না।

জেলেরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী। তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কোন জেলেকে নদীতে মাছ ধরতে দেয়া হবে না। আদেশ অমান্য করে কেউ যদি ইলিশ ধরে ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। এ বিষয়ে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

ইলিশ শিকার নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলার ৪৫ হাজার ৯শ’ ৭৮ জন নিবন্ধিত জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম