Alexa দূর্গাসাগর পাড়ে হরিণের বিচরণ, মাঝখানে ‘দ্বীপ’

ঢাকা, রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৫ ১৪২৬,   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

দূর্গাসাগর পাড়ে হরিণের বিচরণ, মাঝখানে ‘দ্বীপ’

শামীম আহমেদ,বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৪ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

দুর্গাসাগর দীঘি

দুর্গাসাগর দীঘি

টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকলে যে কেউ বলবেন, এটা কেবল দীঘি নয়। পার্কের মতো করা হয়েছে দীঘির চারপাশে। প্রথমেই চোখে পড়বে রকমারি পণ্যের কয়েকটি দোকান আর প্রকাণ্ড বটগাছ। খানিকটা দূরে দেখা মিলবে কয়েকটি হরিণের। বেশিরভাগ পর্যটকই প্রথমেই যান হরিণের কাছে। অনেকেই হরিণের পিঠে হাত বুলিয়ে দেন, তারা কিন্তু একদমই ভয় পায় না।

হরিণের খাঁচার সামনেই বিশাল সাইনবোর্ডে দুর্গাসাগর দীঘির প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাস লেখা আছে। চতুর্দশ শতকে রাজা দনুজমর্দন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এ বংশের পঞ্চম রাজা জয়দেব। তার কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। একমাত্র কন্যা রাজকুমারী কমলা দেবী। কমলা দেবীকে বিয়ে করেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামের উষাপতীর পুত্র বলভদ্র বসু। রাজা জয়দেবের কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় জামাতা বলভদ্র বসু ‘চন্দ্রদ্বীপ’ নামে এ রাজ্য লাভ করেন। তখন চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল বাকলা।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার দূর্গাসাগর দিঘি এখনো দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নজর কাড়ে। অনেকেই নগর জীবনের কোলাহল আর জঞ্জাল থেকে সাময়িক মুক্তি জন্য এখানে এসে ভিড় করেন। বিশাল এ দিঘির মধ্যস্থানে তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ। এখানে এসে অতিথি পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেন। তবে প্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে পাখিদের আগমন অনেকটাই কম।

দিঘীর পাড়ে হরিণ

প্রায় ৭৭ একর জমি নিয়ে দূর্গাসাগর দিঘিটি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত একটি বদ্ধ জলাশয়। ১৯৭৪ সালে দিঘিটি পুণঃখনন করে বর্তমান রূপ এনে দেয়া হয়েছে। দিঘির মাঝে থাকা কৃত্রিম দ্বীপটিও সে সময়কার। দিঘিটি খনন করতে গিয়ে সেসময় উদ্ধার হয়েছিল বিশালাকৃতির ঘোড়ার কষ্টি মূর্তি। সেটি বর্তমানে বরিশাল জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯৯৮-৯৯ সালে দিঘির সীমানা নির্ধারণ করে প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করা হয়।

বরিশাল জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশা। বরিশাল থেকে চাখার যাওয়ার পথেই পড়বে দূর্গাসাগর দীঘি। লঞ্চঘাট থেকে ব্যাটারী চালিত লেগুনা করে চলে যেতে পারেন দীঘির গেট পর্যন্ত। অথবা চাখার যাওয়ার বাসে করে গেলে একদম দীঘির গেটে নামিয়ে দেবে। দীঘির পশ্চিমপাড়ে ঘাট সংলগ্ন স্থানে রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। চাঁদনী রাতে দীঘির পাড়ে রাত কাটাতে চাইলে এখানে থাকতে পারেন। এছাড়া বরিশাল শহরেও ফিরে আসতে পারেন। নগরের কাঠপট্টিতে থাকার জন্য কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে