Alexa দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

নেপালে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর 

দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪২ ১২ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নেপালে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার এক বছর পার হলো আজ। এখনো মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনার দুঃসহ বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। 

নিহত ৫১ জনের মধ্যে ২১ জনের স্বজনকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হলেও এখনো পাননি ২৯ জন। ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি গুরুতর আহত তিন বাংলাদেশিও। উত্তরাধিকার সনদসহ ও অন্যান্য জটিলতা নিরসন হলে খুব দ্রুত বাকীদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সেনা কল্যাণ ইনস্যুরেন্স।

আখিমণি ভালো বেসে বিয়ে করেছিলেন মিনহাজ নাসেরকে। হাতের মেহেদী না মুছতেই বিয়ের নয় দিনের মাথায় হানিমুনে গিয়ে দু'জনে ফিরলেন লাশ হয়ে। স্মৃতি নিয়ে কাটছে এখন স্বজনদের দিন।

আখির মা হাসিনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ওর সঙ্গে কথাই বলতে পারিনি। শ্বশুরবাড়ি কেমন, কি। বিশ্বাস হচ্ছে না ও যে নেই।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি যাত্রীর ছিল আলাদা গল্প ও স্বপ্ন।

খাজা হোসেইন, নিজের জীবন দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন এই তরুণ কেবিন ক্রু। কর্মস্থল ইউএস বাংলাতেই খাঁজার সঙ্গে পরিচয় ও ভালোবেসে বিয়ে কেবিন ক্রু সাদিয়ার। যুগল জীবন শুরুর দেড় বছরের মাথায় প্রিয় স্বামী ও সহকর্মী খাজার মৃত্যুতে নিভে গেছে সব স্বপ্ন। স্বজনদের আক্ষেপ খবর নেয়নি আর কেউ।

খাজা হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, একটা বছর পার হয়ে গেলো ইউএস বাংলার কেউ একটা খোঁজও নেয়নি। কাদের জন্য এতটা ডেডিকেশন দেখালাম?

বিএস -২১১ ফ্লাইটটি ছিল কাঠমান্ডুতে সহকারী পাইলট পৃথুলার অভিষেক ফ্লাইট। একমাত্র সন্তানের সেটাই যে অন্তিম যাওয়া হবে, তা বুঝতে পারেন নি বাবা-মা।

কবির হোসেন, ব্যবসায়িক কাজে নেপাল গিয়ে বিমান দুর্ঘটনায় চিরতরে হারান দুই পা। চিকিৎসা শেষ হলেও এখনো পাননি ক্ষতিপূরণের টাকা।

কবির হোসেন বলেন, আমার তিনটা ছেলে-মেয়ে। ব্যবসা বন্ধ। কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি।

এ পর্যন্ত ১৯ জন বাংলাদেশি ও ২ জন নেপালিসহ মোট ২১ নিহতের স্বজন ও ছয় আহত যাত্রীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তর করেছে সেনা কল্যাণ ইনস্যুরেন্স। উত্তরাধিকার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় বাকিদের অর্থ হস্তান্তরে দেরি হচ্ছে বলে জানায় সংস্থার এমডি।

এই দুর্ঘটনা পুরো এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি শিক্ষা বলে মনে করেন ইউএস বাংলা সিইও আসিফ ইমরান।

পাইলট আবিদ সুলতান, সহকারী পাইলট পৃথুলা রশিদসহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৭ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন। দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক। আহত হয়েছেন দুদেশের মোট ১৯যাত্রী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই