Alexa দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৬ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৯ ২০ জুলাই ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

বানের তোড়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউপির কৈতকিরহাট এলাকায় ১০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে ডেবে গেছে কৈতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোকানপাঠসহ দুই শতাধিক ঘরবাড়ি। বাঁধ ভাঙার শব্দে ঘুমন্ত মানুষ বউ-বাচ্চা নিয়ে নিরাপদ স্থানে গেলেও ঘরের মালামাল ভেসে ও ডুবে গেছে।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, তারা এখন নিস্ব অবস্থায় ওই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ এখন পর্যন্ত স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যান এমনকি সরকারি কোন কর্মকর্তা আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি।

যেমনটি বললেন কৈতকিরহাট গ্রামের ওরচিনা বেগম। বন্যার পানি বাড়িঘরে ওঠায় পাঁচ দিন আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে স্বামী, চার ছেলে-মেয়ে, দুই ছেলের বউ ও নাতীপুতি। কিন্ত এ দীর্ঘদিনেও তাদের কোন খোঁজ নিতে আসেনি কেউ। পায়নি কোনো ত্রাণ। ঘরের যা ছিল তাই দিয়ে কোন মতে দিন পার করছেন। ওরচিনার স্বামী ইয়াদ আলী কৃষি কাজ করেন। তার কোন কাজ না থাকায় বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

একই অবস্থা মো. নিরু মিয়ার। শুধু নিরু মিয়া নয় এই বাঁধে অন্তত দুইশতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্ত  দুএকজন ছাড়া সবাই বলছে তারা কোন ত্রাণ পায়নি।

কৈতকিরহাট বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কৈতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বাঁধের একটি ইদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এসময় স্থানীয় লোকজন বালির বস্তা ও পল (খর) দিয়ে গর্তটি বন্ধ করার চেষ্ঠা করে। কিন্ত তাতেও কাজ না হলে পরবর্তীতে হাল ছেড়ে দেয় ওই এলাকার মানুষ।

কৈতকিরহাট গ্রামের আ: রফ মিয়া বলেন, দুই তলা স্কুল ভবনটি ভেঙে যাওয়ায় এ গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে। বন্যা শেষে বিদ্যালয়টি পূনরায় নির্মাণ করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ব্যবস্থা না করলে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবন থেকে পিছিয়ে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কফিল উদ্দিন বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। এখন পর্যন্ত ফুলছড়ি উপজেলার ৩টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এদিকে, গত দুদিন ধরে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে নদ-নদীর পানি কমলেও এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি না হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখনও পানিবন্দী রয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ফুলছড়ির তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১১ সেন্টি মিটার কমে বিপদসীমার ১৩২ সেন্টি মিটার, ঘাঘট নদীর পানি ১৩ সেন্টি মিটার কমে শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টি মিটার এবং করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টি মিটার ওপরে বইছে। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৫০ সেন্টি মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics