দুর্ঘটনায় থেঁতলে গেছে প্রেমিকার চেহারা, তবুও ছেড়ে যায়নি প্রেমিক! 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭,   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

দুর্ঘটনায় থেঁতলে গেছে প্রেমিকার চেহারা, তবুও ছেড়ে যায়নি প্রেমিক! 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৪ ৩০ জুলাই ২০২০  

জয়প্রকাশ, সুনিতা ও তার পরিবার

জয়প্রকাশ, সুনিতা ও তার পরিবার

আজকাল প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কগুলো খুবই ঠুনকো হয়। নিজেদের মধ্যে আস্থা বা বিশ্বাসের জায়গাটা থাকে খুবই নড়বড়ে। আবার কিছু ভালোবাসার সম্পর্ক আছে, যা শুধুই দৈহিক সৌন্দর্যের কারণে হয়ে থাকে। আবার শেষও হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। 

তবে এই ধরনের সম্পর্কের মধ্যেও হাতেগোনা কিছু মানুষ আছে যাদের ভালোবাসা হয় হৃদয় থেকে। যেখানে তারা শুধু ভালোবাসার মানুষটির ভেতরটাকেই বেছে নেয়। বাইরের চাকচিক্য নয়। ভারতের বেঙ্গালুরুের জয়প্রকাশ সেই খুব কম সংখ্যক প্রেমিকদেরই একজন। যিনি দুর্ঘটনায় চেহারা থেঁতলে ভুতের মতো হয়ে যাওয়া প্রেমিকাকে ছেড়ে যাননি!

সম্প্রতি বিং ইউ (Being You) নামের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে জয়প্রকাশ জানান, মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের ভালোবাসার মানুষ সুনিতার দেখা পান তিনি। শুধু সত্যিকার ভালোবাসার জোরেই কঠিন সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১০ বছর পর পরিণতি লাভ করেছে তাদের প্রেমের গল্প।

ওই ফেসবুক পেজে জয়প্রকাশ তার প্রেমের গল্প পোস্ট করার পর তার পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ৩১ হাজার বার এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার লোক। ওই পোস্টে জয়প্রকাশ স্কুলে থাকা অবস্থায়ই সুনিতার প্রতি তার ক্রাশের কথা বলেন।

 জয়প্রকাশ, সুনিতা ও তার পরিবারতিনি লিখেছেন, আমার বয়স ১৭ যখন তখনই একদিন আমাদের ক্লাশরুমের পাশদিয়ে একটি নতুন মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখি। আমি তার দিক থেকে নজর ফেরাতে পারছিলাম না। তার মতো আর কাউকেই আমি এর আগে আর কখনো দেখিনি। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু কিছুদিন পর দুজন দু শহরে চলে গেলে আমাদের মাঝে মধ্যেই শুধু সাক্ষাৎ হত। কিন্তু তখনো প্রেমে পড়ার উপলব্ধি আসেনি আমাদের মাঝে।

প্রেমে পড়ার বিষয়টি ব্যক্ত করতে গিয়ে জয়প্রকাশ লিখেন ২০১১ সালের নভেম্বরে হঠাৎ করেই এক বন্ধু আমাকে ফোন করে বলে সুনিতা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তাকে কোইম্বাতোরে নেয়া হয়েছে। সুনিতাকে দেখতে গিয়ে আমি যা দেখি তাতে স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। তার মাথার চুলগুলো সব উঠে গেছে। চেহারাটি থেতলে আলাদা হয়ে গেছে। কোনো নাক নেই। মুখ নেই। দাঁতও নেই। হাঁটছিল ৯০ বছরের বুড়ির মতো। তার অবস্থা দেখে আমি ভেঙে পড়ি। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমি উপলব্ধি করি আমি তাকে ভালোবাসি।

জয়প্রকাশ জানান, সেই রাতেই তিনি সুনিতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সুনিতা কোন জবাব না দিয়ে শুধু মৃদু হেসেছিলেন। সেই থেকেই একসঙ্গে পথচলা শুরু করেন জয়প্রকাশ-সুনিতা দম্পতি। অনেক বাঁধা অতিক্রম করে ২০১৪ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজনে। বর্তমানে তাদের দুটো সন্তান আছে। জয়প্রকাশ সুখের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তার কৈশোরের ভালোবাসার সঙ্গেই।

এমন ভালোবাসার গল্পগুলো এখনো আমাদের বিশ্বাস করতে সাহায্য করে যে, পৃথিবীতে এখনো সত্যিকারের ভালোবাসা আছে। সময়ের বিবর্তনে তা শেষ হয়ে যায়নি। জয়প্রকাশই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ