Alexa দুর্গম পাহাড়ি স্কুলে প্রযুক্তির ছোঁয়া

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৪ ১৪২৬,   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

দুর্গম পাহাড়ি স্কুলে প্রযুক্তির ছোঁয়া

আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৫ ৭ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা থেকে প্রায় ৮কি.মি. দূরে বিদ্যুৎহীন পাহাড়ি পল্লীর একটি বিদ্যালয় গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুর্গম পাহাড়ে প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষার মান উন্নতের পাশাপাশি বনায়নেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিদ্যালয়টি। 

এখানে কর্মরত শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ঝড়ে পড়া রোধ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজ। আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদেরও আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতে এরইমধ্যে সব শিক্ষকই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ল্যাপটপও ক্রয় করেছেন। 

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজ জানান, পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। 

বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। এ বছর বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বিদ্যালয়টিতে বরাবরই পাশের হার শতভাগ। এছাড়াও ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিন জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক সেকশনে ২৩০ জন ও জুনিয়র সেকশনে (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি) ১০০ জন শিক্ষার্থী আছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের শেষ দিকে মো. মাসুদ পারভেজ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা পাল্টে যেতে থাকে। শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ শুরু হয়। বিদ্যালয়ের আঙিনাসহ আশপাশে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করে তুলতে মা সমাবেশসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এরইমধ্যে মাটিরাঙ্গার ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাশ ও খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনসহ একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বেশ প্রশংসা করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস