দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে বিশেষ আমলসমূহ

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭,   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে বিশেষ আমলসমূহ

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৮ ২৮ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:০১ ২৮ মার্চ ২০২০

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আপনার আদেশ নিষেধ মেনে চলার এবং আপনার প্রিয় হাবিব রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতিটি সুন্নত সহিহ ও শুদ্ধভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আপনার আদেশ নিষেধ মেনে চলার এবং আপনার প্রিয় হাবিব রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতিটি সুন্নত সহিহ ও শুদ্ধভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রমশ বেড়েই চলেছে মৃত্যু। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে এ ভাইরাসটি। দেশে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পাশাপাশি প্রাণ গেছে পাঁচজনের। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরো অনেকে। 

আরো পড়ুন>>> করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে জরুরি ৪ আমল

বিশ্বব্যাপি মহাবিপর্যয়ের (করোনাভাইরাস) এ সময়সহ সব সময় আমাদের দোয়া, জিকির এবং বিভিন্ন নেক আমলের মাঝে অতিবাহিত করা জরুরি প্রয়োজন বা উচিত। 

আরো পড়ুন >>> কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন রাসূল (সা.)   রাসূলের (সা.) পরামর্শ মানলেই করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব: মার্কিন গবেষক

এমন অনেক নেক আমল ও দোয়া আছে যার ফজিলত আমরা জানি না। ফজিলতপূর্ণ ও অতি উত্তম নেক দোয়াগুলো আমাদের জান্নাতের পথ সুগম করে দেয় ও দুনিয়ার বিভিন্ন ধরনের বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত ও রোগ-বালাই থেকেও হেফাজত করে।

তো চলুন আজ আমরা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণার্থে ফজিলতপূর্ণ ও অতি উত্তম নেক আমল বা দোয়াগুলো শিখে নিই।

নেক দোয়া বা আমলগুলো হলো-  

(১) প্রতিদিন ১০০ বার ‘সুবহান আল্লাহ’ পাঠ করলে ১০০০ সওয়াব লিখা হয় এবং ১০০০ গুনাহ মাফ করা হয় । (সহিহ মুসলিম)।

(২) ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মিজানের পাল্লাকে ভারী করে দেয় এবং এটি সর্বোত্তম দোয়া। (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ)।

(৩) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সর্বোত্তম জিকির। (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ)।

(৪) ‘সুবহান আল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।’ এই কালিমাগুলো আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় এবং রাসূল (সা.) বলেন, পৃথিবীর সমস্ত জিনিসের চাইতে আমার নিকট অধিক প্রিয়। (সহিহ মুসলিম)।

(৫) যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী’ পাঠ করবে সমুদ্রের ফেনা পরিমান (সগীরা) গুনাহ থাকলেও তাকে মাফ করে দেয়া হবে। (সহিহ আল-বুখারী, সহিহ মুসলিম)।

(৬) নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী সুবহানাল্লিল আজিম।’ এই কালিমাগুলো জিহ্বায় উচ্চারণে সহজ, মিজানের পাল্লায় ভারী, দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রিয়। (সহিহ আল- বুখারী, সহিহ মুসলিম)।

(৭) যে ব্যক্তি ‘সুবহান আল্লাহিল আজিমি, ওয়াবি হামদিহ’ পাঠ করবে প্রতিবারে তার জন্য জান্নাতে একটি করে (জান্নাতি) খেজুর গাছ রোপন করা হবে। (আত-তিরমিযী, আল-হাকীম, সহিহ আল-জামে)।

(৮) নবী (সা.) বলেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’ হচ্ছে জান্নাতের গুপ্তধন সমুহের মধ্যে একটি গুপ্তধন। (সহিহ আল-বুখারী, সহিহ মুসলিম)।

হাদিস শরিফে উল্লেখ্য আছে, উল্লিখিত দোয়াটি ৯৯ রোগের মহৌষধ। তবে সর্বনিম্ন রোগ হলো দুশ্চিন্তা।

(৯) নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সুবহান আল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আল্লাহু আকবর ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউ-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ এই কালিমাগুলো হচ্ছে ‘অবশিষ্ট নেকআমল সমুহ’। (আহমাদ)।

আরো পড়ুন >>> ফোরাত নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়া কেয়ামতের আলামত : তবে কখন?

(১০) অন্তর পরিশুদ্ধির জন্য অন্যান্য ইবাদতের মতো দরুদ শরিফ পাঠ একটি উত্তম আমল। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা.) এর ভালবাসায় সিক্ত হওয়ার জন্য দরুদ শরিফ বারংবার পাঠ একটি উত্তম মাধ্যম। 

আল্লাহ তায়ালার প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়তে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন। আল্লাহ বলেন,

আরবি :

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

অর্থ:

‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁহার ওপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর।’ (পবিত্র কোরআন: ২২ পারা, সূরা: আহযাব, রুকু: ৭, আয়াত: ৫৬)।

রাসূল (সা.) এর প্রতি মুহব্বত নিয়ে দরুদ পাঠ করা উত্তম ইবাদত। রাসূল (সা.) নিজেও দরুদ পাঠ করার জন্য তাঁর উম্মতদের বলেছেন, রাসূল (সা.) দরুদ পাঠের ফজিলত ও মাহাত্ন্য উম্মতদের জানিয়ে দিয়েছেন। 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম)।

দরুদ শরিফ পাঠ করলে সহজে দোয়া কবুল হয়ে যায়। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেন, নিশ্চয় বান্দার দোয়া-মোনাজাত আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলানো থাকে, তার কোনো কিছু আল্লাহ পাকের নিকট পৌঁছে না যতক্ষণ না বান্দা তার নবীর (সা.) প্রতি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজী শরিফ)।

জুমার দিনে দরুদ পাঠের ফজিলত :

শুক্রবার তথা জুমার দিন দরুদ পাঠের রয়েছে আরো বেশি ফজিলত। নিচে এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো-

হজরত আওস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, একটি হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। ... সুতরাং সেদিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরূদ পড়। নিশ্চয় তোমাদের  দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। ... (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৬১৬২; সহিহ ইবনে হিববান, হাদিস : ৯১০, হাদিসটি সহিহ)।

অন্য হাদিসে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জুমার রাত ও জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর। যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৩/২৪৯; ফাযাইলুল আওকাত, বায়হাকী ২৭৭; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নী ৩৭৯, এর সনদ হাসান পর্যায়ের)।

‘অন্য আরেক হাদিসে আছে, ‘প্রত্যেক জুমার দিনে তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ কর। কারণ আমার উম্মতের দরূদ প্রতি জুমার দিন আমার কাছে পেশ করা হয়। আর তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচে বেশি দরুদ পাঠ করে সে অন্যদের তুলায় আমার বেশি নিকটবর্তী। (সুনানে বায়হাকী ৩/২৪৯, এর সনদটি হাসান)।

সালাতের মধ্যে দরুদে ইব্রাহিম পাঠ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। দরুদে ইব্রাহিম বেশ ফজিলতপূর্ণ। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে এই দরুদ পড়া হয়। সালাত ছাড়াও অন্যান্য যে কোনো সময় এই দরুদ শরিফ পাঠে রয়েছে মুস্তাহাব সাওয়াব।

দরুদে ইব্রাহিমের আরবি উচ্চারণ, বাংলা উচ্চারণ এবং বাংলা অর্থসহ দেখুন-

আরবি :

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌاللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد

উচ্চারণ :

আল্লাহুম্মা সাল্লেআ’লা মোহাম্মদাও ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মোহাম্মাদেওঁ ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা বারকতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।

অর্থ :

‘হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।’

আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলমানকে নবী (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের তওফিক দান করুন। 

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন,

إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا وَعْدَ اللّهِ حَقًّا إِنَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُواْ يَكْفُرُونَ

উচ্চারণ : ইলাইহি মারজি‘উকুম জামী‘আওঁ ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কান ইন্নাহূইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূলিইয়াজঝিয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া আ‘মিলুসসা-লিহা-তি বিলকিছতি ওয়াল্লাযীনা কাফারূলাহুম শারা-বুম মিন হামীমিওঁ ওয়া ‘আযা-বুন আলীমুম বিমা-কা-নূ ইয়াকফুরূন।

অর্থ : তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আজাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল। (সূরা : ইউনুস, আয়াত : ৪)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আপনার আদেশ নিষেধ মেনে চলার এবং আপনার প্রিয় হাবিব রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতিটি সুন্নত সহিহ ও শুদ্ধভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে