Alexa দুই প্রতিবন্ধী বোনের খবর নেয় না কেউ

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

দুই প্রতিবন্ধী বোনের খবর নেয় না কেউ

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৭ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউপির শৌলমারী হাফাতিকান্দা উত্তর গ্রামের বাসিন্দা আহেমা খাতুন ও আশরাফুন নেছা। তারা দুই বোনই প্রতিবন্ধী।

দীর্ঘদিন ধরে অন্যের দেয়া একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করছেন। ভিক্ষা করেই চলছে তাদের সংসার। এ দুই বোনকে পাগলি হিসেবেই চেনেন এলাকাবাসী। কিন্তু অসহায় দুই বোনের কষ্টের খবর কেউ নেয় না।

দুই বোন বিধবা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভাতা পাননি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রকল্প জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের ঘরও তাদের ভাগ্যে জোটেনি।

২৫ বছর আগে আহেমার বিয়ে হয় একই ইউপির ডাঙ্গুয়াপাড়া গ্রামের নইম উদ্দিনের সঙ্গে। বিয়ের দুই বছর পরেই স্বামী মারা যান। কোনো সন্তান না থাকায় স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় হয়নি তার। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে বের করে দেন। পরে বাধ্য হয়েই চলে আসেন বাবার বাড়ি। 

বড় বোনের বিয়ের কিছুদিন পর ছোট বোন আশরাফুন নেছার বিয়ে হয় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায়। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার স্বামী তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই তার স্বামীও মারা যান।

পরবর্তীতে বড় বোনের মতো একইভাবে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। সেই থেকে দুই বোন একসঙ্গে থাকেন। তাদের বাবা-মা কেউ নেই। ভাইরা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্রে বসবাস করছেন। ভাতিজা মহিম আলী ৩ শতাংশ জমি কিনে সেখানে থাকেন। মানবিক কারণে তার ভাতিজা দুই ফুফুকে ছোট একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

আহেমা ও আশরাফুন নেছা বলেন, এখানে থাকারও নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো সময় ভাতিজা আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঘর চাই। ভাতা চাই। মরার আগে হাসতে চাই।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিল বলেন, অসহায় দুই বোনের ব্যাপারে ইউপি সদস্যরা আমাকে কিছুই জানাননি। আমি দু-একদিনের মধ্যে খবর নিয়ে তাদের সহযোগিতা করব।

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্ল্যাহ বলেন, অসহায় দুই বোনের কথা আপনাদের কাছে শুনলাম। এদের দিকে নজর না দেয়ায় খুবই দুঃখজনক। এর জন্য দায়ী ওই এলাকার ইউপি সদস্যরা। আমার কাছে বর্তমান কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ এলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর