Alexa দুই কোরিয়ার ১০ দিক

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

দুই কোরিয়ার ১০ দিক

 প্রকাশিত: ২১:৪০ ২৭ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ০৮:৩৫ ২৮ এপ্রিল ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দুই কোরীয় নেতা কোরীয় উপদ্বীপ থেকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্তির ব্যপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। উত্তরের কিম জং উন ও দক্ষিণের মুন জায়ে ইনের বৈঠকের পর এমন প্রতিজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন ইতিহাস গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। ১৯৫০ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতা দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন। আজ দুই কোরিয়ার ১০টি দিক সম্পর্কে জানাবো।

১। কোরীয় যুদ্ধ

১৯৫০ সালের ১৫ জুন উত্তর কোরিয়ার পিপলস আর্মির প্রায় ৭৫ হাজার সেনা ৩৮ ডিগ্রি অক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণ করে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এটাই প্রথম যুদ্ধ। এই যুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার সেনা ও সাধারণ মানুষ মারা যায়।

২। দুই কোরিয়ার সমর্থনকারীরা

যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন আর দক্ষিণ কোরিয়া পক্ষে ছিল পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো। যুক্তরাষ্ট্রও দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম সমর্থক।

৩। যুদ্ধের ইতি

স্নায়ুযুদ্ধের সময় এটাই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধ। এতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, এখান থেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হবে। পরে জতিসংঘের হস্তক্ষেপে ১৯৫৩ সালে আর্মেস্টিক চুক্তির মাধ্যমে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটে।

৪। কোরীয় যুদ্ধে ক্ষয় ক্ষতি

যুদ্ধে দুই কোরিয়ার প্রায় ৬ লাখ সেনা মারা যায়। ১৬ থেকে ১৭ লাখ সাধারণ মানুষ ওই যুদ্ধে প্রাণ হারায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় এগিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়। ধারণা করা হয় এই যুদ্ধে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়।

৫। লাউড স্পিকার

উত্তর কোরিয়ার মাইনের ফাঁদে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই সেনা নিহত হয়। এর পর দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সীমান্তে লাউডস্পিকার স্থাপন করে। এর জন্য তারা বিশ্বজুড়ে সমালোচিতও হয়েছিল। এই স্পিকারগুলো সব সময়ই বাজানো হতো। এতই উচ্চ স্বরে বাজানো হতো যে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছিল। পড়ে ২০১৫ সালে স্পিকারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশ্য উত্তর কোরীয়াও একসময় সীমান্তে স্পিকার বাজানো শুরু করে।

৬। পতাকা খুটির প্রতিযোগিতা

১৯৮০ সালে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তবর্তী ডেসং-দং গ্রামে ৩২১ দশমিক পাঁচ ফুট দীর্ঘ একটি ফ্ল্যাগ পোল বা পতাকা খুঁটি তৈরি করে। এর জবাবে উত্তর কোরিয়া তাদের গিজুং-দং শহরে ৫২১ ফুট দীর্ঘ পতাকার খুঁটি নির্মাণ করে।

৭। বেলুন প্রচারণা

দুই কোরীয়ারই বেলুনে বিভিন্ন বার্তা লিখে এক পাশ থেকে আরেক পাশে প্রেরণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই বেলুনগুলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে বেলুনের বার্তাগুলো মানুষকে অনেকটাই সফলভাবে প্রভাবিত করতে সমর্থ হয়েছে।

৮। সিক্রেট এজেন্টস

দুই দেশই একে অপরকে দেশের অভ্যন্তরে গোয়েন্দা কার্যক্রমে চালানোর জন্য দায়ী করে এসেছে। আবার একে অপরকে এ ধরনের কার্যক্রমে চালাচ্ছে না বলে দায় অস্বীকারও করেছে।

৯। অলিম্পিকে অংশগ্রহণ

২০১৮ শীতকালীন অলিম্পিকে দুই কোরিয়ার যৌভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের যৌথ মহিলা হকি দল জয়লাভও করেছে। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এক সঙ্গে অলিম্পিক উপভোগ করেছেন এবং তাদের খেলোয়াড়দের উৎসাহ যুগিয়েছেন।

১০। কিম-মুন বৈঠক

অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়ছে দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক বৈঠক। ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে ৬৫ বছর পর উত্তর কোরীয় কোন নেতা দোক্ষিণ কোরিয়া গেলেন। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্তির ব্যপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics