Alexa দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, রাতে চা বিক্রি!

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, রাতে চা বিক্রি!

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৭ ২৩ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৯ ২৩ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. নাজমুল হোসেন। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই করছেন চা বিক্রি। এর উপার্জনেই নিজে চলার পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করেন নাজমুল।

গল্পটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই। টিউশনি বেছে নিয়েছিলেন। তবে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মানবিক বিভাগের ছাত্র বলেই সম্মানী কম পেতেন। এতে নিজের জরুরি অনেক প্রয়োজনেও ছুটি পেতেন না।

সেই থেকেই ভাবলেন, এমন কিছু করা উচিত, যেখানে তার নিজের স্বাধীনতা থাকবে। ইচ্ছে হলে কাজ করবেন, না হলে করবেন না। তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কেউ থাকবে না।

যেই ভাবনা, সেই কাজ। মায়ের জমানো হাজার চারেক টাকা আর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে মুঠোফোন রিচার্জের কাজ শুরু করলেন। বসতেন মিরপুর ১০ নম্বরের কাছেই। তবে প্রতিদিন মিরপুরে যাওয়া-আসা, দোকান চালানো, সব মিলিয়ে ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না নাজমুল। এছাড়া ফুটপাতে ব্যবসাতে আছে অনেক ঝামেলা। সব মিলিয়ে মুঠোফোন রিচার্জের দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন।

একবার অভাব–অনটনের যন্ত্রণায় নাজমুল ভেবেই বসেছিলেন, পড়াশোনাই ছেড়ে দেবেন।  পরে আবার নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত বদলালেন,‘না, যেভাবেই হোক টিকে থাকতে হবে! শেষ করতে হবে পড়াশোনা।’ 

তখন হঠাৎ করেই মাথায় আসল, তিনি মোটামুটি চা বানাতে পারেন। ব্যাস, তা-ই সই! মুঠোফোন রিচার্জ ব্যবসার জমানো টাকায় একটি ভ্যান বানিয়ে নিলেন। আর কিনে ফেললেন চা বানানোর সব সরঞ্জাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনেই শুরু করে দিলেন। যেখানে সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আড্ডা দিতে আসে, সেখানে আরো দু–চারটি দোকানের পাশে ভ্যান নিয়ে বসে চা বিক্রি শুরু করলেন নাজমুল।

প্রথম দিকে নাজমুলের চা বিক্রি নিয়ে পরিচিতজনেরা বেশ অবাক হয়েছিলেন। অনেকেই নানা তীর্যক মন্তব্য করেছেন। কেউ আবার চা বিক্রি না করে কারো সহায়তা নেয়ার পরামর্শও দেন। তবে সাহায্য চাওয়ার চেয়ে কাজটাকেই বেছে নিলেন নাজমুল। সব মিলিয়ে নিজের মতো চলছেন। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে নাজমুল বলেন, আরো কিছু টাকা জমাতে পারলেই কিস্তিতে একটা মোটরবাইক কিনবেন। কোনো একটি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের হয়ে দিনের একটা সময় মোটরবাইক চালাবেন। 

শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাটের এক নিভৃত গ্রামে নাজমুল হোসেনদের বাড়ি। ২০১২ সালে নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ভিটেবাড়ি। নিরুপায় হয়ে নাজমুলের বাবা সাত্তার হাওলাদার ও মা নাজমা বেগম পাড়ি জমান গাজীপুরে। চার সন্তান নিয়ে ঘোর সংকটে পড়েছিলেন নাজমুলের মা-বাবা। সামান্য পুঁজি নিয়ে বাবা একটা ছোট মুদিদোকান চালান। এখন সেই দোকানের আয়েই কোনোরকমে সংসার চলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে থাকেন নাজমুল। ভাই-বোনদের মধ্যে সবার বড়। তাই বলেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে চালিয়ে নিচ্ছেন পড়াশোনা! গাজীপুর সদরের হাতিমারা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাশের পর ঢাবিতে ভর্তি হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/জেডএম