দিনাজপুরে শেষ হল জামাই মেলা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৪ ১৪২৬,   ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

দিনাজপুরে শেষ হল জামাই মেলা

দিনাজপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:৫৫ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৮:৫৫ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুর মোখলেজপুর গ্রামের জয়াহার পাড়ায় তিন দিন ব্যাপী জামাই মেলা শেষ হয়েছে। শনিবার মেলার শেষদিনে নাটক, গান, কৌতুক, নাচ, যেমন খুশি তেমন সাজ ও  ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। 

শত বছর ধরে এই গ্রামে পিঠা-পুলি খাওয়ানোর জন্য জামাই আর মেয়েদের দাওয়াত দেয়া হয়। তিনদিন ধরে চলে এ উৎসব। সেই সঙ্গে জামাইদের নিয়ে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। সেই মেলায় দূর দূরান্ত থেকে মিষ্টির দোকান, চুড়ি ফিতার দোকান, বাঁশি, ছোটদের জন্য বেলুনের দোকান, খেলনার দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বসে। 

জামাই মেলার  গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া, রশি খেলা, বস্তা দৌড়, মোরগ যুদ্ধ, বিস্কুট দৌড়, পাড়ে পুকুরে, উল্টো দিকে দৌড়, মহিলাদের হাড়ি  ভাঙা, জামাইদের জন্য বেলুন ফুটানো খেলার আয়োজন করা হয়। 

জামাই আরমান হোসেন বলেন, আমার বাড়ি নাটোরে, পুলিশের চাকরি করি ঢাকা সাভারের স্মৃতিসৌধে আছি, প্রতিবছর এই দিনে শ্বশুরবাড়ি আসার জন্য দাওয়াত দেয়া হয়। প্রতিবছর এই দিনে শ্বশুরবাড়িতে আসতেই হবে । তাই আমি প্রতিবছর জামাই মেলায়  আসি এবং জামাইদের জন্য বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করি। এ বছর আমি বেলুন ফাটানো খেলায় অংশগ্রহণ করি। 

খেলা পরিচালনাকারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি এই জামাই মেলার বিভিন্ন খেলা পরিচালনা করে আসতেছি। এর আগে আমার বাপ চাচারা এই জামাই মেলার আয়োজন করত। তারা আজ নেই তাদের এই সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। আর পর আমার ছেলেরাও এই সংস্কৃতি ধরে রাখবে। জামাই মেলার শেষ দিনে নাটক,গান, কৌতুক, নাচ, পালাগান  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে বিভিন্ন গ্রামে নারী, পুরুষ মানুষের জামায়েত হয়। আমাদের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কি পরিমাণ আনন্দ পাওয়া আপনারা কল্পনা করতেও পারব না । 

জামাই মেলার আয়োজনকারী সিফাত- ই- জাহান শিউ বলেন,  গ্রাম বাংলা সাংস্কৃতিক ধরে রাখার জন্য আমার বাবা শাহাজাহান শাহ এ সব সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্য উৎসবের আয়োজন করত। আজ বাবা নেই তারই কর্নধার হিসেবে বাবার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর জামাই মেলার আয়োজন করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম