Alexa দাসপ্রথা বিলুপ্তকারী রাষ্ট্রপতি আব্রাহামের জীবনের গল্প

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

দাসপ্রথা বিলুপ্তকারী রাষ্ট্রপতি আব্রাহামের জীবনের গল্প

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ২৭ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১৪:২৫ ২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আব্রাহাম লিংকন ছিলেন মানবতাবাদী সফল রাষ্ট্রনায়ক। তাকে সর্বকালের সেরা রাষ্ট্রনায়ক বললে ভুল হবে না। তিনি ১৮৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন ১৮৬৩ সালে। একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও আব্রাহাম লিংকন মেধা আর পরিশ্রমের কল্যাণেই হয়ে ওঠেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি। তার সংগ্রামী জীবনের গল্পই ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তুলে ধরবো আজ।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি প্রদেশের হার্ডিন কাউন্টিতে জন্ম নেন আব্রাহাম লিংকন। তার বাবা ছিলেন থমাস লিংকন। মায়ের নাম ছিল ন্যান্সি হ্যাঙ্কস লিংকন। বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন লিংকন। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি তার মাকে হারান। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা পুনরায় বিয়ে করেন। তার নাম ছিল সারাহ জোন্সটন। আব্রাহাম লিংকনের যখন ৪ বছর বয়স ছিল তখন তাদের পরিবার কেন্টাকি প্রদেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ানা প্রদেশের পেরি কাউন্টিতে বসবাস শুরু করে।

দাম্পত্য জীবন:

আব্রাহাম লিংকন ১৮৪২ সালের ৪ নভেম্বর ম্যারি টডকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে আলো করে ৪ জন সন্তানের জন্ম হয়। তাদের নাম রবার্ট টড লিংকন, টেড লিংকন এডওয়ার্ড লিংকন, উইলিয়াম লিংকন।

পড়াশোনা:

ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি প্রচুর নেশা ছিল লিংকনের। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকা সত্বেও আর্থিক অনটনের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করার তেমন সুযোগ পাননি। মাত্র ১৮ মাস স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল তার। তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। নিজের চেষ্টায় আয়ত্ব করেন আইনশাস্ত্র।

আব্রাহাম লিংকনের সংগ্রামী জীবন:

আব্রাহাম লিংকনের জন্ম হয় এক দরিদ্র পরিবারে। তার বাবা কাঠ কাটার কাজ করতেন। লিংকন তার বাবার কাজে সহযোগিতা করতেন। আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন সংগ্রামী মানুষ। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে তাকে। কখনো পোস্ট মাষ্টারের কাজ কখনো বা নৌকা চালিয়েছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে মুদি দোকানদারিও করেছেন। ছোট থাকতেই তিনি তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। সংগ্রামী জীবনের মধ্য থেকেও পড়াশোনা বাদ দেননি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শিখে নিয়েছেন আইনশাস্ত্র। এক সময় তিনি আইনজীবী হন।

১৬ তম রাষ্ট্রপতি হওয়া:

কে জানতো অভাবের কারণে পড়াশোনার সুযোগ না পাওয়া আব্রাহাম লিংকন একদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন? ১৮৬১ সালে আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্টের ১৬ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮৪৭ সালে আব্রাহাম লিংকন ওয়াশিংটন পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজন্টেটিভ হিসেবে ২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। তিনি সেসব সমস্যার সুষ্ঠ সমাধানও করেন।

দাসপ্রথার বিলুপ্তি:

আব্রাহাম লিংকন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সারাদেশে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। দাসপ্রথাকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় তখন। লিংকন গৃহযুদ্ধের সময় উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। কনফেডারেট জোটকে তিনি পরাজিত করেন। ১৮৬৩ সালে তিনি দাসপ্রথার বিলুপ্ত করেন এবং দাসদেরকে মুক্ত করেন। ১৮৬১ সালে সংঘঠিত এই গৃহ যুদ্ধটি ‘আমেরিকা গৃহযুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে প্রায় ৩৫ লাখ কৃতদাস মুক্ত হয়।

আব্রাহাম লিংকনের ঐতিহাসিক ভাষণ:

১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর গেটিসবার্গে গৃহযুদ্ধে নিহতদের স্মরণ সভায় আব্রাহাম লিংকন বক্তব্য প্রদান করেন। লিংকনের দেয়া সে দিনের বক্তব্য বিশ্বে চির স্মরণীয় হয়ে আছে। ভাষণের শুরুতে লিংকন তার পূর্ব পুরুষদের কথা স্মরণ করেন যারা আমেরিকা মহাদেশের গোড়াপত্তন করেছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায় শহীদদেরকে স্মরণ করে বলেন, তাদের অসমাপ্ত কাজ আমরা যারা বেঁচে আছি তাদেরই সমাপ্ত করতে হবে।

‘জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার এবং জনগণের সরকার পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে না’

এ কথা বলেই তিনি তার ঐতিহাসিক ভাষণের ইতি টানেন। তার ভাষণ ছিল মাত্র ৩ মিনিটের। বক্তব্যটি এত অল্প সময়ের হলেও এটি ছিল অর্থবহ।

আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত বাণী:

আব্রাহাম লিংকন নেই কিন্তু তার রেখে যাওয়া অমর উক্তিগুলো মানবজাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। তার অসংখ্য উক্তি থেকে এখানে কিছু উক্তি দেয়া হলো।

Goverment of the people, by the people, for the people.
“জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য”

No man has a good enough memory to be a successful liar.
“কোনো মানুষেরই একজন সফল মিথ্যাবাদী হওয়ার মতো যথেষ্ট স্মৃতিশক্তি নেই।”

Be sure you put your feet in the place, then stand firm.
“যথাস্থানে পা রেখেছো কিনা সেটা আগে নিশ্চিত হও, তারপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও।”

The ballot is stronger than the bullet.
“ব্যালট বুলেটের চেয়েও বেশি শক্তিশালী”

Give me six hours to chop down a tree and I will spend the first four sharpening the axe.
“একটি গাছ কাটার জন্য আমাকে ৬ ঘণ্টা সময় দাও, আমি ৪ ঘণ্টাই কুড়াল ধার দেব।”

You can fool all the people some of the time and some of the people all time, but you cannot fool all the people all the time.
“তুমি সব সময় কিছু মানুষকে বোকা বানাতে পারো, মাঝে মাঝে সব মানুষকে বোকা বানাতে পারো। কিন্তু সব সময় সব মানুষকে বোকা বানাতে পারো না।”

আব্রাহাম লিংকন শুধু একজন রাষ্ট্রপতি কিংবা আইনজীবী ছিলেন তা কিন্তু নয়। তিনি ছিলেন একজন লেখক। ‘গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস’ লিংকনের লেখা অন্যতম একটি বই। বইটিতে তার দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ স্থান পেয়েছে। বইটি ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত হয়। এটি প্রকাশ হয় ইংরেজি ভাষায়। ১৯০৫ সালে ‘এ্যান অটোবায়োগ্রাফি অব আব্রাহাম লিংকন’ নামে আত্নজীবনীমূলক বইও বের হয় তার। এছাড়া স্পিচেস অ্যান্ড রাইটিংস, উইজডম অ্যান্ড উইটসহ বেশ কয়েকটি বই লিখেন তিনি।

হত্যা:

১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনের ফোর্ড থিয়েটারে জন উইকস নামের এক ব্যক্তি তাকে গুলি করে। পরদিন ১৫ এপ্রিল সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে

Best Electronics
Best Electronics