Exim Bank
ঢাকা, সোমবার ২১ মে, ২০১৮
iftar
বিজ্ঞাপন দিন      

দারিদ্র কী ভয়াবহ হতে পারে!

 তসলিমা নাসরিন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫১, ১৫ মে ২০১৮

আপডেট: ১৩:৫৫, ১৫ মে ২০১৮

৩৯৬ বার পঠিত

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্বগাটিয়াডাঙ্গা হাঙ্গরমুখ কাদিরিয়া মঈনুল উলুম দাখিল মাদরাসার মাঠে মেয়েরা ভিড় করেছিল।

কারণ এলাকার এক লোক ওই মাঠেই গরিব মেয়েদের চাল, শাড়ি, ১ হাজার টাকা, আর কিছু ইফতার সামগ্রী বিতরণ করবেন। মেয়েরা কিন্তু আগের দিন থেকেই মাঠে বসে ছিল। পরদিন, মানে আজ, সকাল ৮ টায় বিতরণ শুরু হয়, আর ভিড়ের মধ্যে পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় ১০ জন বিভিন্ন বয়সী মেয়ে।

একজন একজন করে মেয়েরা যাবে সামগ্রী নিয়ে আসতে, এই ব্যবস্থাটা কি করা উচিত ছিল না দাতার সেবকদের? লাইন গরিবেরা করতে জানে না। ওদের সবসময় মনে একটা ভয়, যদি হঠাত চাল ডাল টাকা পয়সা ফুরিয়ে যায়! এইজন্য পড়ি কী মরি করে সবাই আগে যেতে চায়। সুবিধে ফুরিয়ে যাবে এই ভয় তো শুধু গরিবদের নয়, এই ভয় সবারই! সবাই ছুটতে থাকে কিছু না কিছু পাওয়ার আশায়। 

বিশ্বাসীরা তীর্থস্থানে ভিড় করে কিছু পাবে বলে। পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় ওরাও। বিশ্বাসীরা অবশ্য তীর্থ করতে গিয়ে মরে গেলে পূণ্য অর্জন হয় বলে মনে করে। কিন্তু যে মেয়েগুলোকে আজ মরতে হলো, শুধু সামান্য কিছু দান নেওয়ার জন্য, এতে তাদের কোনও পূণ্য হবে না। পূণ্য হবে দাতার, যিনি তার অঢেল সম্পদ থেকে অতি সামান্য কিছু দান করে পূণ্য কামাতে চেয়েছেন। সেবক নিয়োগ করে ভিড় সংযত করেন নি বলে তাঁর পূণ্য আদৌ হ্রাস পাবে বলে মনে হয় না। ভিড় সংযত না করার কারণে কারও মৃত্যু হলে পূণ্যের হ্রাস বৃদ্ধি নিয়ে সেকালে কোনও হাদিসের বাণী রচিত হয়নি।

গরিবরা তো অহরহই মরছে। একসঙ্গে অনেকে মরলে খবর হয়। তাও আবার অপঘাতে মরলে। আর খবর হলেই আমাদের টনক নড়ে, দেশে দরিদ্র লোক ছিল তাহলে! কী করে জানবো ছিল, আমাদের বাড়ির বা গাড়ির জানালা থেকে ওদের তো দেখা যায় না!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর দায় ভার পুরোপুরি লেখকের। ডেইলি বাংলাদেশ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

লেখক: নির্বাসিত লেখিকা

সর্বাধিক পঠিত