দাফনের একদিন পর জানা গেল জীবিত!

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ২ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

দাফনের একদিন পর জানা গেল জীবিত!

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫২ ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৩ ১২ জুন ২০১৯

জীবিত উদ্ধার হওয়া গোলাপি বেগম। ফাইল ছবি

জীবিত উদ্ধার হওয়া গোলাপি বেগম। ফাইল ছবি

রাজশাহীর বাঘায় দাফনের একদিন পর বুধবার সকালে আড়ানী রেলস্টেশন থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে গোলাপি বেগম নামে এক নারীকে। বর্তমানে গোলাপি থানা হেফাজতে রয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় চকবাউসা গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে মুখে মবিল মাখানো অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ওই মরদেহের পরিচয় মেলে। তিনি উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগম।

বুধবার সকালে আড়ানী রেলস্টেশন থেকে গোলাপি বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে আড়ানী ইউপিতে আনা হয়। সেখানে গোলাপির মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগমের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসল গোলাপিকে শনাক্ত করা হয়।

তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে চেয়ারম্যান গোলাপিসহ উভয় পরিবারকে থানায় পাঠিয়ে দেন।

গোলাপি বেগম বলেন, ঈদের আগে ২৯ মে রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে পরদিন বিদ্যুৎ বিল দেয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

আমি ছয় বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের ৫ মাসের সন্তানের কথা ভেবে বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে চিনতে পেরে ইউপিতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে থানায় পাঠানো হয়।

গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, গোলাপি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বাদী হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় জিডি করি। মুখে মবিল মাখানোর কারণে সঠিকভাবে মরদেহটি চিনতে পারিনি।

পৌর নারী কাউন্সিলর ও পাঁচপাড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, প্রায় চার মাস আগে গোলাপি বেগম ছয় বছরের ছেলে মারুফ হোসেনকে রেখে এক যুবকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে চলে যায়। গোলাপির স্বামী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা পুনরায় তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে আনেন।

গোলাপির শ্বশুর বিচ্ছাদ আলী বলেন, আমার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গোলাপি নিজের ইচ্ছেমতো চলাফেরা করে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের বিভিন্ন কথা শোনায়। ফলে আমরা দেখেও না দেখার ভান করে থাকি। এর মধ্যে আমার ছেলে ও নানিকে রেখে চলে গিয়েছিল। ১২ দিন পর তাকে জীবিত পাওয়া গেছে। তবে চকবাউসা গ্রামের লালু প্রামাণিকের ভুট্টাক্ষেতে যে মরদেহ পাওয়া যায়, সেটি অন্য কারো।

ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, গোলাপিসহ উভয়পক্ষ আমার কাছে এলে, তাদের থানায় পাঠাই। তবে আত্মীয়স্বজনের কাছে জেনে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মনে হয়েছে, তিনি আসল গোলাপি।

বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী বলেন, উদ্ধার করা মরদেহটি ভুলভাবে তার আত্মীয়রা শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পারিবারিক গোরস্তানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়। এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে। তবে উদ্ধার করা মরদেহের মুখে পোড়া মবিল দেয়া ছিল। এ ছাড়া মরদেহের পাশ থেকে একটি কালো বোরকা, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি গুলের কৌটা পাওয়া যায়। মরদেহের গলা ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিল। এখন গোলাপি থানা হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য জায়গায় ওই নারীকে হত্যা করে চকবাউসা গ্রামের ওই ভুট্টাক্ষেতে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। প্রকৃত অজ্ঞাত নারীর মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর