Alexa দাদার বাড়ি দেখা হলো না জায়ানের

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

দাদার বাড়ি দেখা হলো না জায়ানের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:০৯ ২৪ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দাদার বাড়ি দেখা হলো না শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীর। বাড়িতে না ফিরলেও ঠিকই দেশে ফিরছে জায়ান। তবে কফিনবন্দি লাশ হয়ে। 

বুধবার বাবাকে ছাড়াই দেশে আনা হচ্ছে তার লাশ। শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সের পায়ের জখম গুরুতর হওয়ায় তাকে এখনই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। 

এদিকে আগামী নভেম্বরের শুরুতেই প্রথমবারের মতো পৈতৃক নিবাস দিরাই ভাটি পাড়ায় আসার কথা ছিল জায়ানের। তাই সপ্তাহখানেক আগে দাদা মতিনুল হক চৌধুরী ঢাকা থেকে চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। নাতি বাড়ি আসবে,সেই খুশিতে। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ায় জায়ান চৌধুরীদের আদিবাড়ি। এক কালে এলাকায় জমিদারি ছিলো ওই পরিবারের। এখনো জমিদারির চিহ্ন লেগে আছে এলাকায়। গ্রামে আলিশান বাড়ি। যা চৌধুরী বাড়ি নামে পরিচিত।

নাতি আসার আনন্দে বাড়ি এসেই শুরু করেন বাড়ির সংস্কারকাজ। বাড়ি এসে শ্রমিক লাগিয়ে নতুন করে চৌধুরী নিবাস সংস্কার,পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা,বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার কাজ শুরু করেন। বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন ফ্রিজ। বিদ্যুৎ ভোগান্তির শঙ্কায় নতুন জেনারেটর কিনে ছিলেন। গাড়ি যাতে সহজে বাড়িতে আসতে পারে,সে জন্য রাস্তায় নতুন মাটি ভরাট করেন। গ্রামের একে-ওকে নাতির আসার খবরটি দিয়েছেন।

প্রিয় নাতির কাছে প্রায়ই নিজেদের গ্রামের বাড়ির গল্প করতেন মতিনুল হক চৌধুরী। গল্প করতেন বিশাল হাওরের। দাদার মুখে গ্রামের বর্ণনা শুনে গ্রামে আসার বায়না ধরেছিলো জায়ান।

কিন্তু নাতিকে নিজেদের আদি বাড়ি দেখানোর বাসনা অধরাই রয়ে গেল। গত রোববার বিকেলে পাওয়া দুঃসংবাদে সব এলোমেলো হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় আরো অনেকের সঙ্গে প্রাণ হারায় জায়ান। খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি ছেড়ে মতিনুল হক ঢাকার বাসায় ছুটে যান। নাতির মৃত্যুর খবর শুনে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন বলে জানান মতিনুল হক চৌধুরীর ভাতিজা সুজাত বখত চৌধুরী। 

তিনি বলেন, সম্পর্কে উনি আমার চাচা হলেও আমরা ছিলাম সমবয়সী। তিনি (মতিনুল হক) ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি দিরাই আসার সময় আমাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। গল্প করেছেন উনার নাতি আদরের জায়ান চৌধুরী গ্রামের বাড়ি আসবে আগামী নভেম্বরে। তাই গ্রামের বাড়ি নতুন করে সাজানো,সংস্কার কাজ তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে করাচ্ছিলেন।

মতিনুল হক চৌধুরীর চাচাতো ভাই বৃদ্ধ আবু নোমান চৌধুরী জায়ানের প্রসঙ্গ তুলতেই কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন,বড় ভালো ছেলে ছিল জায়ান। এবার মা-বাবাকে নিয়ে জায়ান গ্রামে আসতে চাইছিলো। সেই সঙ্গে তার নানা শেখ সেলিম সাহেবেরও আসার কথা ছিল। জায়ান এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল,এটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। তারা কেন আমার নিষ্পাপ নাতিকে মারল। তার কী দোষ ছিল।

গত রোববার ইস্টার সানডে পালনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর কয়েকটি গীর্জা ও হোটেল সহ আটস্থানে সিরিজ বোমা হামলায় নিহত হন তিন শতাধিক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। এই হামলায় জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। জায়ানের নানা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা শেখ সেলিম। আর দাদা দাদা মতিনুল হক চৌধুরী। 

বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও মা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিলো দুই ভাই জায়ান ও জোহান। কে জানতো ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া হবে। আর কখনো ফেরা হবে না তার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ