ঢাকা, বুধবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৫,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সবসময় চাঙা রাখে যে খাবার…

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি

 প্রকাশিত: ১৩:০৬ ১২ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৪২ ১২ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বেঁচে থাকতে শরীরের প্রয়োজনে খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। খাদ্যের মাধ্যমে আমরা শক্তি পেয়ে থাকি। তবে ক্ষুধা লাগলেই যে এটা সেটা খেয়ে পেট ভরালেই হবে না। সুস্থ থাকতে খাবার সঠিক খাবার খেতে হবে। অর্থ্যাৎ যেসব খাবারে পুষ্টিগুণ বেশি এবং কম খেলেই শরীর প্রয়োজনীয় উপাদান পাবে সেদিকে খেয়াল রেখে খাওয়া চাই। অনেকেই আছেন মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে ক্যালোরি মেপে খাবার গ্রহণ করেন। এতে পর্যাপ্ত ও সঠিক খাবার না খাওয়ায় শরীর দুর্বল হতে থাকে। আবার যারা নির্দিষ্ট ওজন ধরে রাখতে চান তারা কোন খাবারগুলোর মাধ্যমে ওজন ধরে রাখবেন তা জানেন না তারা জেনে নিন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে। যে খাবারগুলো ওজন বাড়তে দেবে না সঙ্গে শরীরে শক্তি উৎপাদন হবে।

পানি:

শরীর সুস্থ রাখতে পানি পান করতেই হবে। ‘পানির অপর নাম জীবন’ জানেন তো? সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে ত্বক, কিডনি এবং শরীরের সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ সুফল পাবে। এটি সর্বাধিক সস্তা, শূন্য-ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক খাদ্যের মধ্যে অন্যতম। পানিতে থাকা মিনারেল শরীর চাঙা রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৪ লিটার পানি পানের অভ্যাস গড়তে হবে।

বাদাম:

বিভিন্ন ধরনের বাদাম শারীরিক শক্তি উৎপাদনে বিশেষভাবে কাজ করে। বাদামে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। ম্যাগনেসিয়াম সুগারে রূপান্তরিত হয়ে এনার্জি বাড়িয়ে থাকে। আর এই শক্তি মস্তিষ্ক দ্বারা ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, বাদাম রিবোফ্লোভিন সমৃদ্ধ। বাদাম এবং পেঁপে বীজ প্রচুর শক্তি রয়েছে। তাই প্রতিদিন বাদাম খাওয়া উচিত।

টক দই:

সস্তা এই খাবারটি কিন্তু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দই ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। যারা প্রতিদিন শরীর চর্চা করেন তাদের জন্য দই আইডিয়াল ফুল হিসেবে বিবেচিত। টক দইয়ে প্রোবায়োটিক রয়েছে যা গর্ভবতী নারীর গর্ভে থাকা শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। আজকাল বিভিন্ন ফ্লেভারের দই পাওয়া যায়। পছন্দ অনুযায়ী আপনারটি বেছে নিন।

কলা:

কলা এমন একটি ফল যাতে প্রচুর শক্তি উপাদান রয়েছে। এতে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি যা কি-না সারাদিনের শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। কলায় থাকা পুষ্টি উপাদান ধীরে ধীরে ব্লাড সুগার পরিবর্তন করে যার ফলে রক্তের গ্লুকোজ হঠাৎ বৃদ্ধি পায় না। এছাড়াও এই ফলে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

খেঁজুর:

সারাদিন কোনো খাবার না খেয়ে যদি চার-পাঁটি খেঁজুর খান তবেই পুরো দিনের এনার্জি পেয়ে যাবেন। খেঁজুরেও কলার মতই প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে যা তাত্ক্ষণিক শক্তি প্রদানে সাহায্য করে। এছাড়াও ধীরে ধীরে রক্তের গ্লুকোজ স্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এটি। ফাইবারসমৃদ্ধ এই ফলটি রোজকার ডায়েটে রাখা চাই ।

চর্বিহীন মাংস:

মুরগী, টার্কি এবং চর্বিহীন মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকে। প্রোটিন শক্তির সেরা উৎস হলো মাংস। প্রোটিন ধীরে ধীরে শরীরকে শক্তি প্রদান করবে। যার ফলে প্রোটিন শক্তি দু’দিন পরও পেয়ে থাকবেন। তবে যে কোনো মাংস বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় স্বল্প পরিমাণে এটি রাখা উচিত।

ডিম:

ডিমের চাহিদা বিশ্বব্যাপী। এতে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। ডিমের প্রোটিন শরীর এবং মস্তিষ্কের জন্য প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। নাস্তায় ডিম সেদ্ধ বা ওমলেট খেতে পারেন। ডিমে আয়রন, কোলাইন এবং অন্যান্য অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। যা আমাদের মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।

কমলালেবু:

শরীরে প্রাকৃতিকভাবে শক্তি উৎপাদনে কাজ করে কমলালেবু। এটি তাৎক্ষনিক শক্তি সঞ্চার করে এবং ক্লান্তি ভাব কমিয়ে দেয়। কমলা ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসম্পূর্ণ। ত্বক সুন্দের রাখতেও এর বিকল্প নেই।

তরমুজ:

তরমুজ প্রাকৃতিক চিনির উৎস। এছাড়াও তরমুজ পটাসিয়াম সমৃদ্ধ। যা ক্লান্তি রোধ করে শক্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খালি পেটে তরমুজ খেলে এটি পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। তরমুজ ভিটামিন বি সমৃদ্ধ এবং দীর্ঘ দীর্ঘস্থায়ী শক্তি প্রদান করে।

মাছ:

মাছের তেল শক্তির ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন এবং রিবোফ্লেভিন রয়েছে যা সহজে শক্তি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। স্যালমনের মত মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড