ঢাকা, রোববার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৫,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০

দশ বছর আগে মারা যাওয়া ওয়াজেদ ব্যবহার করছেন বিদ্যুৎ!

জামালপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:০৮ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৪১ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দশ বছর আগে মারা যাওয়া ওয়াজেদ আলী এখনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তাও আবার অবৈধভাবে!

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সরিষাবাড়ি জোনাল অফিসের দাবি ওয়াজেদ আলী গত দুই মাসে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে ৫৭ হাজার ৮১০ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এ জন্য তার নামে মামলা দিয়েছেন জোনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার মোস্তফা কামাল। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে জনমনে।

জানা যায়, সরিষাবাড়ি উপজেলার বয়ড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াজেদ আলী ২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর মারা যান। অথচ ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওয়াজেদ আলী অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ৫৭ হাজার ৮১০ টাকা মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওয়াজেদ আলীকে অর্থ পরিশোধের তাগাদা দিলেও বকেয়া পরিশোধ না করায় বাধ্য হয়ে সরিষাবাড়ি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে একটি সিআর মামলা করেছেন।

এদিকে মামলা নোটিশ প্রচার করতে গেলে, এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভসহ কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যে ব্যক্তি গত ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি কিভাবে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন? পল্লী বিদ্যুৎ লাইনম্যানরা কিভাবে অলৌকিক ভাবে মৃত ব্যক্তিকে উপস্থিত করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অর্থ আদায়ের তাগাদা দিলেন?

নিহত ওয়াজেদ আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আব্বা জীবিত থাকাবস্থায় কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ যন্ত্র না চালানোর কারণে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আক্তারুজ্জামান বরাবর ২০০৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চিঠি ইস্যু করায় সেই বছরের ২২ তারিখে সে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ফি জমা দেন। পরে পল্লীবিদ্যুতের এজিএম এর কাছে লিখিত দিয়ে ৫ কেভিএ দুটি ট্রান্সফরমার, একটি বৈদ্যুতিক মিটারসহ বিদ্যুৎ লাইনের তার কর্তন করে অফিসে জমা দেয়া হয়। ২০০৯ সালে তার বাবা মারা যায়। অথচ মৃত্যুর ১০ বছর অতিবাহিতের পর কিভাবে অলৌকিক ভাবে তিনি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেন?

এ ব্যাপারে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/টিআরএইচ