হাসপাতালের হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৩ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

হাসপাতালের হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ

 প্রকাশিত: ১৮:২১ ১১ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৮:২১ ১১ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের হিসাব রক্ষক আবুল কালাম মাতুব্বরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।

আবুল কালামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে ধরে ভুক্তভোগীরা প্রচারপত্র বিলি করেছেন। কিছুদিন ধরে স্থানীয় প্রেস ক্লাবসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযোগের প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

সদর হাসপাতালের আট কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সালে আবুল কালাম মাতুব্বর পিরোজপুর সদর হাসপাতালের হিসাব রক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে সে নানা ধরণের দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরতে শুরু করেন।

সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলম ও হিসাব রক্ষক কালামের বাড়ি একই জেলা পটুয়াখালীতে। সিভিল সার্জনের অবহেলায় কালাম এসব দুর্নীতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার সুযোগ পায়।

প্রচার পত্রে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের কর্মচারীদের যোগদান ও বদলির ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য তাকে দিতে হয় ঘুষ। নানা অজুহাত দেখিয়ে নার্সদের বেতন থেকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে নেয়া হয়।

হাসপাতালের কর্মচারীদের (তিন বছর পর ১৫ দিন ছুটি ও বেসিকের সমপরিমান টাকা) বিনোদনের ছুটি মঞ্জুর ও অর্থ ছাড় করাতে বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেকটাই দিতে হয়। এছাড়া হাসপাতালের উন্নয়নমূলক কাজ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা। রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমত না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতালে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক নিয়োগকৃত কর্মচারীদের যৌন হয়রাণির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দুইবার লাঠিপেটা খেতে হয়েছে।

কালাম মাতুব্বরকে দশ দিনের মধ্যে বদলি করা না হলে তার দায় সিভিল সার্জনকেই নিতে হবে বলে ভুক্তভোগীরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন। আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও হিসাব রক্ষক কালাম এখনো বদলি করা হয়নি।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ভেষজ বাগানের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৮২ হাজার টাকার কাজ না করে নিজে আত্মসাৎ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নার্স বলেন, সদর হাসপাতালে ৭২ জন নার্স রয়েছে। এদের কাজের সময় নির্ধারণ করার জন্য তিনি নার্সদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকে। প্রচারপত্রে লেখা কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক বলেও জানান নার্সরা।

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির অপর এক কর্মচারী জানায়, আমার বিনোদনের টাকা থেকে কালাম মাতুব্বর ২ হাজার ৫শ’ টাকা কেটে রেখেছে।

আবুল কালাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোবাইল ফোনে জানায়, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য নয়। কে বা কারা কেন আমার বিরুদ্ধে প্রচারপত্র বিলি করেছে তা বুঝতে পারছি না। তবে, কেন দুইবার মার খেলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর পারেনি। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলম বলেন, কালাম মাতুব্বরের বিরুদ্ধে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই বিভাগীয় শাস্তি নেয়া হবে। তার বিরুদ্ধে প্রচারপত্র বিলি হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে/আরআর

Best Electronics