Alexa দলের প্রতিপক্ষ দলই

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

যশোর-শার্শা

দলের প্রতিপক্ষ দলই

 প্রকাশিত: ১৮:১৪ ২৩ মার্চ ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের শার্শা-বেনাপোল এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন যে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগই।আর বিএনপির বিরুদ্ধে লড়ছে বিএনপি।

সীমান্তবর্তী শার্শা ও বেনাপোল নিয়ে যশোর-১ আসন। এখানকার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের।

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। কোন্দলের জের ধরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগে রয়েছে দুই পক্ষের দুটি কমিটি। স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন ও মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের দ্বন্দ্বে এমন হয়েছে বলে তৃণমূলের কর্মীরা মনে করেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের একাংশের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। অন্য অংশের নেতা বেনাপোল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। তাদের দুই জনের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক। শুধু তাই নয়, এই দুই শীর্ষ নেতার অনুসারী মধ্যম সারির নেতারাও কেউ কারও মুখ দেখাদেখি করেন না।

সূত্র মতে, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগে দুটি কমিটি রয়েছে। শেখ আফিল উদ্দিনের উপস্থিতিতে গঠিত কমিটিতে সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেল। এ কমিটি গঠনের পর রাসেলকে বাদ দিয়ে জেলা ছাত্রলীগ আকুল হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলেও এমপি আফিল অনুসারীরা মেনে নেয়নি। আফিল উদ্দিনের বিভিন্ন জনসভায় রাসেলকেই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, উপজেলা যুবলীগেও রয়েছে দুটি কমিটি। শেখ আফিল উদ্দিনের পক্ষে অহিদুজ্জামান সভাপতি ও সোহারাব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক বলা হচ্ছে। আর মেয়র লিটনের জনসভায় সাইদুজ্জামান বিটনকে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। একইভাবে বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগেরও রয়েছে দুই পক্ষের দুটি কমিটি।

দুটি কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের আশরাফুল আলম লিটন (শার্শা, বেনাপোল, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, এ জন্য শার্শার বিশেষ এক ব্যক্তি দায়ী। ওই ব্যক্তি সংগঠনের গঠনতন্ত্র না মানায় এই সংকট হয়েছে।  কেন্দ্র দেয় জেলা কমিটি, জেলা দেয় উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি। বিশেষ ওই ব্যক্তি এটা না মেনে নিজে কমিটি ঘোষণা করেন। শুধু কমিটি নয়, ইউপি নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকার প্রার্থীদের বিপক্ষেও তিনি প্রার্থী দিয়েছেন। এসব বিষয় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অবহিত আছেন।

বক্তব্য নিতে এমপি আফিল উদ্দিনের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার বলেন, ২০০১ সালে শেখ আফিল উদ্দিন যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন দল ছিল ভাঙ্গাচোরা। তিনি দলকে শক্তিশালী করেছেন। এজন্য বেনাপোল পৌরসভার মেয়র, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সব ইউপি চেয়ারম্যান এখন আওয়ামী লীগের।এমন নেতার বিপক্ষে কথা বলা শোভা পায় না।

এদিকে বিএনপির একাংশের নেতাদের আতংক কেন্দ্রীয় সাবেক দফতর সম্পদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির দলে ফেরা নিয়ে। তৃপ্তি দলে ফিরলে তার বিরোধী শিবির হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির সুবিধা করতে পারবে না এমন আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে, বিএনপির কোন্দল মাঠে ময়দানে  প্রতিফলিত না হলেও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তা স্পষ্ট। উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহিরের মধ্যে রয়েছে দ্বন্দ্ব। আবার দুই জনেরই আতঙ্ক শার্শার বাসিন্দা বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। ১/১১-র সময় খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে সংস্কারপন্থী হিসেবে তাকে বহিস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি দলে ফিরছেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

তৃপ্তিকে দলে না ফেরানোর দাবিতে কয়েক দফায় সংবাদ সম্মেলনও করেছে শার্শা উপজেলা বিএনপির মধু-হাসান গ্রুপ। তাদের ভাষ্য, তৃপ্তি দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। দলের দুর্দিনে সুবিধাভোগী এই নেতার বহিস্কার প্রত্যাহার করলে কর্মীরা হতাশ হবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর