Alexa দলিল প্রতি ‘স্যারের চেক’ ১৫শ টাকা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

দলিল প্রতি ‘স্যারের চেক’ ১৫শ টাকা

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৩ ২০ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১২:৪৭ ২১ আগস্ট ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ- ঘুষ ছাড়া দলিল পাস করেন না তিনি। ঘুষের পরিমাণ দলিল প্রতি ১৫শ টাকা। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী। সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমেও।

১৮ আগস্ট রাতে ভুক্তভোগী এক সহকারী শিক্ষকের ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই স্ট্যাটাসে জাকির হোসেনের দুর্নীতি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি।

শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ স্ট্যাটাসে লেখেন, কেউ বলুক আর না বলুক আমাকে বলতেই হবে। কারণ আমি ভোক্তভোগী। কয়েক দিন আগে একটি দলিল করতে আমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাই। কয়েকজন দলিল লেখকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম নির্ধারিত খরচ ছাড়াও ‘স্যারের চেক’ বাবদ প্রতি দলিলে ১৫শ টাকা দিতে হবে। তাদের সবার বক্তব্য রেকর্ড করলাম। তারপর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে দলিল প্রতি অতিরিক্ত ১৫শ টাকা দিতে অসম্মতি জানালাম।

তখন তিনি বললেন, নাহ! আমার অফিসে এসব চলে না। কে বলল আপনাকে এসব? দলিল সাবমিট করেন আমি দেখব।

ধন্যবাদ জানিয়ে কথাগুলো রেকর্ড করে রুম হতে বের হলাম। যখন দলিল সাবমিট করব তখনই ক্যাশিয়ার কিছু অলিখিত ফিসহ ২২শ টাকা দাবি করলেন। অনেক বাকবিতণ্ডার পর আমি ১২শ টাকা দিতে বাধ্য হলাম।

জাকির হোসেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট বকশীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। রেজিস্ট্রেশন ফি’র অতিরিক্ত ১৫শ টাকা না দিলে দলিল পাস করেন না তিনি। তাই হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য হন জমির মালিকরা।

জানুয়ারি মাসে দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে ঘুষ না দেয়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের। এ নিয়ে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হলে জামালপুর-১ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদের হস্তক্ষেপে তা নিষ্পত্তি হয়।

শুধু দুর্নীতিই নয়, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর