দরিদ্রের ভরসা চেয়ারম্যানের বিনামূল্যের দোকান

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

দরিদ্রের ভরসা চেয়ারম্যানের বিনামূল্যের দোকান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২০ ৯ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অসহায় ও নিম্নআয়ের লোকজনের জন্য বিনামূল্যের দোকান বসিয়েছেন এক জনদরদি চেয়ারম্যান। ওই দোকানে ফ্রি দেয়া হচ্ছে চাল, পেঁয়াজ, টমেটো ও সাবান। নিম্নআয়ের লোকজন নিজ হাতে প্রয়োজন মতো নিচ্ছেন এসব পণ্য। বিপদের এ দিনে এ দোকানটি এলাকার দরিদ্রদের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজার সড়কের পাশে বিনামূল্যের এ দোকান বসানো হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত দোকানের খাদ্যসামগ্রী ফ্রি দিয়েছেন স্থানীয় তোরাবগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ফয়লস আহমেদ রতন। তিনি ওই ইউপির প্রয়াত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিমের ছেলে।

কমলনগরের জনপ্রিয় এ চেয়ারম্যান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির শুরু থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাতের আঁধারে অসহায়দের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া অব্যাহত রেখেছেন। চরাঞ্চলের সহজ-সরল বাসিন্দাদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন করছেন। হাটে বাজারে-মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।

এবার চেয়ারম্যান রতন বাজারে বিনামূল্যের দোকান বসিয়ে তিনি সড়কের পাশে চেয়ার পেতে বসে নিজেই সেটি তদারকি করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সে দোকানে স্তুপ করে রাখা সাবানসহ খাদ্যসামগ্রী নিচ্ছেন লোকজন। শুধু তার ইউপির বাসিন্দারাই নয়, পাশের চর মার্টিন, চর লরেন্স ও ভবানীগঞ্জ ইউপির নিম্নআয়ের লোকজনও এ সুযোগ নিচ্ছেন।

সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সি নারী পুরুষ যার যার প্রয়োজন মাফিক ওই দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় গ্রহিতারা কোন ইউপির বাসিন্দা তাও দেখা হচ্ছে না। কাউকে কোনো পরিচয়ও জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে না। সবাই স্বাধীনভাবেই খুশি মনে দৈনিক প্রয়োজনীয় খাদ্য নিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রথম দিন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ এ খাদ্যসামগ্রী নিয়েছেন।

চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রম এ উদ্যোগ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তোরাবগঞ্জ বাজারের এক দোকানদার খাদ্যসামগ্রী নেয়ার পর বলেন, আমি তোরাবগঞ্জ ইউপির বাসিন্দা না হয়েও আজ এখান থেকে খাদ্য পেলাম। সারাদেশেই এ রকম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চালু করা দরকার।

চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ রতন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দিনমজুর অসহায় ও নিম্নআয়ের লোকজন অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কথা ভেবেই তোরাবগঞ্জ বাজারে বিনামূল্যের দোকান চালু করেছি। দেড় টন চাল, ২০০টি সাবান, ৩০০ কেজি টমেটো, ১৮০ কেজি পেঁয়াজ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। সপ্তাহে একদিন এ বিনামূল্যের দোকান বসবে। চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর সঙ্গে থাকবে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ