অবৈধ সিম রেজিস্ট্রেশন চক্রের ২ সদস্য আটক

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

অবৈধ সিম রেজিস্ট্রেশন চক্রের ২ সদস্য আটক

 প্রকাশিত: ২০:১৯ ৭ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২০:১৯ ৭ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে গ্রামীণ সিম রেজিস্ট্রেশন প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় বিপুল পরিমাণ সিম উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- সৈয়দ তানভীরুর রহমান (৩৫) ও মো. তৌফিক হোসেন খান (পলাশ) (৩৮)।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকশ দল এ অভিযান চালায়। র‌্যাব সদর দফতরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূইয়া রোববার বিকেলে ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য জানান। 

তিনি জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রি-রেজিস্ট্রেশনের পর অবৈধ নাম্বার থেকে চাঁদা দাবি, হুমকিসহ বিভিন্ন অপরাধ কমে আসে। অনেক অপরাধীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিল। সম্প্রতি কিছু অভিযোগ আসছে। 

পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওইসব নম্বর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জালিয়াতি করে রেজিস্ট্রেশন করা। গত ১৯ সেপ্টেম্বরে মোবাইল ফোনে এক বিদেশি নাগরিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা চওয়া হয়। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। ওই বিদেশি নাগরিক ভাসানটেক থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করে। একই সঙ্গে র‌্যাব-৪ এ জানানো হয়। র‌্যাব-৪ ছায়াতদন্তে মাঠে নামে। এক পর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে, সিম রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে জড়িত একটি ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের কর্মকর্তা ও কিছু অসাধু গ্রামীণ ফোন কর্মকর্তা অধিক মুনাফার লোভে অবৈধভাবে সিম বিক্রি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অগোচরে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে সিম বিক্রি করছে। 

‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এ ধরনের অবৈধ সিম সাধারণত চাঁদাবাজি ও প্রতারণার কাজে সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে থাকে।’

সিনিয়র সহকারী পরিচালক আরো জানান, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তির সাহায্য ও ওই বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে অনেক তথ্য বের হয়ে আসে। যে নম্বরটি থেকে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল তা মাইক্রোকডেস ইনফরমেশন নামে এক সংস্থার নামে রেজিস্ট্রি করা। যা মো. তৌফিক হোসেন খান (পলাশ) এর মালিকানাধীন মোনাডিক বাংলাদেশ নামে রেজিস্ট্রেশন করা। সিমটি ওই ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের তদারকির দায়িত্বে থাকা গ্রামীণ ফোনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (বিজনেস সেলস) সৈয়দ তানভীরুর রহমান অ্যাকটিভেট করে। মাইক্রোকডেস ইনফরমেশন কোম্পানির অনুমতি ছাড়াই অ্যাকটিভেট করা হয়।

তিনি বলেন, ওই নাম্বারটিও একটি ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের মাধ্যমে ইস্যু করা এবং ওই হাউজের তদারকির দায়িত্বে থাকা গ্রামীণ ফোনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (বিজনেস সেলস) সৈয়দ তানভীরুর রহমান সিমটি অ্যাকটিভেট করে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিমটি মাইক্রোকডেস ইনফরমেশন কোম্পানির অনুমতি ব্যতিত অ্যাকটিভেট করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ এর মেজর মাসুদ হোসেন আহমদের নেতৃত্বে একটি অপারেশন টিম অভিযান পরিচালনা করে মো. তৌফিক হোসেন খান (পলাশ) ও  সৈয়দ তানভীরুর রহমানকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় শনিবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

পরে আরো অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৯ ও ১১ জুন ৪২টি কোম্পানির অনুকূলে ৮৬৭টি সিম ইস্যু করা হয়। ওই কোম্পানিগুলোর অনুমতি ছাড়াই অ্যাকটিভেট করা হয়েছিল সিমগুলো। ঐ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের সহায়তায় গ্রামীণ ফোন প্রতিনিধি তানভীরুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সিমগুলো অ্যাকটিভেট করা হয়। 

গ্রেফতাররা জানায়, বিভিন্ন কোম্পানির অনুমতি না নিয়ে তারা অতিরিক্ত সিম রেজিস্ট্রেশন করে রাখে। পরবর্তীতে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে। এ সব সিম সাধারণত অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এসআই

Best Electronics