দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের দাবি ইতিহাস পরিপন্থী
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=194481 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের দাবি ইতিহাস পরিপন্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৪৪ ১৬ জুলাই ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে ২০১৬ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চীন। ২০১৮ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ফিলিপাইন সফর করেছিলেন। সফরটিতে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চলা উত্তেজনা দূর করাসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো।

সফর শুরুর কিছুদিন আগে এক বার্তায় শি জিনপিং জানান, ৬০০ বছর আগে চীনা অভিযাত্রী ঝেং হি তার সপ্তম সমুদ্র যাত্রায় বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহায়তার সন্ধাণে ফিলিপাইনের ম্যানিলা সাগর, ভিসায়াস ও সুলু অঞ্চল একাধিকবার ভ্রমণ করেছিলেন।

তিনি জানান, ইউরোপীয়রা সেই অঞ্চলটির দ্বীপপুঞ্জে এসে সেটিকে স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের নামে লাস ইসলাস ফিলিপিনাস নামকরণের আরো আগেই চীন সেটার সন্ধাণ পেয়েছিলো।

তবে অতীত ইতিহাস যাচাই করে দেখা গেছে যে, ঝেং হি কখনো ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে পা রাখেননি।

সম্প্রতি ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি অ্যান্টোনিও কার্পিও দাবি করেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এক অনলাইন লেকচারে তিনি বলেন, ঝেং হি আসলে ফিলিপাইন ভ্রমণই করেননি।

নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে তিনি চীনেরই নেভাল হাইড্রোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট –এর বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, ঝেং আসলে তৎকালিন চ্যাম রাজ্য, বর্তমানের ভিয়েতনাম ভ্রমণ করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি তার লেকচারে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলের ‘ঐতিহাসিক সমুদ্রসীমা অধিকার’ সংক্রান্ত নানান প্রমাণাদিও উপস্থাপন করেন।

এদিকে গত সোমবার দক্ষিণ চীন সাগরের ‘বেশিরভাগ সম্পদ’ এর উপর চীনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক দীর্ঘ বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগরের বেশিরভাগ অংশেরই সম্পদের উপর বেইজিংয়ের দাবি ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন।

পম্পেও বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ পেতে বেইজিং যে ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে সেটি বেআইনি। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিং তার সামুদ্রিক সাম্রাজ্য বানাতে চাইলে বিশ্ব তা মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র তার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের মিত্রদের পাশে দাঁড়াবে, সামুদ্রিক সম্পদের উপর তাদের যে সার্বভৌম অধিকার তা সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য পাশে থাকবে।’

দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন বর্গমাইলকে নিজেদের সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে দাবি করে বেইজিং। গত কয়েক বছর ধরে সেখানকার কয়েকটি দ্বীপে সামরিক ঘাঁটিও তৈরি করেছে চীন।

ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই এবং স্ব-শাসিত তাইওয়ানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও দ্বীপপুঞ্জও দক্ষিণ চীন সাগরের কয়েকটি নির্দিষ্ট দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্র অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে। গত কয়েক বছর ধরে ওই অঞ্চলে অন্যান্য দেশের মাছ ধরা ও খনিজ অনুসন্ধানের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে বেইজিং। বেইজিংয়ের দাবি, ওই অঞ্চলটি কয়েক শতাব্দী ধরে চীনের অন্তর্গত।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী