থমথমে ক্যাম্পাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা 

ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

থমথমে ক্যাম্পাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১২ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৬ ১২ মার্চ ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনরায় ভোটের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী, বামজোট ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া ভিপি পদে পুনরায় ভোট চেয়ে বিক্ষোভ করছে ছাত্রলীগ। এতে করে ক্যাম্পাসে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রয়োজন ছাড়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাম্পাসে আসেননি। সবার মধ্যে কাজ করছে অজানা ভয়। অন্যদিকে যারা বাহির থেকে আসেন তারাও  বিরত রয়েছেন। ফলে আজ অধিকাংশ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।

এদিকে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের ফলে উদয়ন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঢাবি ক্যাম্পাস ও আশপাশের সড়কে বিআরটিসি ভাড়া কিছু বাস চলাচল করছে। তবে টিএসসি বা মূল চত্বর থেকে যেসব বাস ছেড়ে যায়, সেগুলো ভিসির বাস ভবনের সামনে বিক্ষোবের কারণে আটকে আছে। 

অন্যদিকে কার্জন হল এলাকা থেকে যথারীতি চলছে বাস। 

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনপুলের ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, ভোর ৫ টার আগে যে বাসগুলো ছেড়ে যায় সেগুলো ছেড়ে গেছে। কিন্তু ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে কারণে মূল চত্বর বা টিএসসি থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে কার্জন হলের দিকের বাস চলাচল করছে। 

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই হাতেগোনা। যারা এসেছেন তাদের অধিকাংশই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ক্লাস হতে দেখা যায়নি। 

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিচ্ছৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আজও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আসেন কোটা আন্দোলন নেতা ও ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর। দুপুরে মিছিল নিয়ে ভিপি নূরসহ তার সমর্থকরা টিএসসি এলাকায় এলে তাদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে কোটা, বামজোট ও স্বতন্ত্র পরিষদ নেতারা।  

পরে নূরসহ তার সমর্থকরা টিএসসির ভেতরে আশ্রয় নেন। এর কিছুক্ষণ পর বহিরাগত সন্দেহে একজনকে মারধর করে তারা। টিএসসি এলাকাসহ আশপাশে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছেন। চলছে বিক্ষোভ ও মিছিল।

পরে এর প্রতিবাদে টিএসসির বাইরে বিক্ষোভ করেন বাম সংগঠনগুলো। তাদের বিক্ষোভের মুখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে চলে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে, নূরসহ তার দলের নেতাকর্মীরা টিএসসি থেকে বের হয়ে বাম সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেন।

রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভে ভিপি নুরু বলেন, যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হতো তাহলে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই একটি সিটও ছাত্রলীগ পেতো না। 

তিনি বলেন, যদি তারা পদ পায়, তাহলে আমি পদত্যাগ করবো। সুষ্ঠ নির্বাচন যদি সাধারন শিক্ষার্থীদের চাওয়া হয়, আমি ফের সবার সঙ্গে একমত হয়ে লড়তে চাই

নুরু বলেন, তারা আমাদের আটকে রাখতে পারেনি। বস্তাভরা ব্যালট দেখিয়েছি। তবুও প্রশাষন বলছে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। 

হামলার বিষয়ে নুরু বলেন, হাতুড়ি হেলমেট বাহিনী হামলা করছে। এসব করবেন না, জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবেন। ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। তবুও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে যাব। 

ঢাবি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে নুরু বলেন, ছাত্রদের অধিকার নিয়ে খেলবেন না। ভিপি ছাড়া অন্য পদ গুলোতে পুনরায় নির্বাচন চান তিনি। 

তিনি বলেন, সাধারন শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেননি। এত কারচুপির পরও জিতেছি। তাই মনে করি আমরা নৈতিক ভাবেই জয়লাভ করেছি। অন্য গুলোতে ছাত্রলীগকে জেতানো হয়েছে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান নুর।

দুপুর আড়াইটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল বাদে ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী সব দল একসঙ্গে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এ সময় নেতাকর্মীদের মুখে ‘ছাত্রবন্ধু নূর ভাই কারচুপিতেও হারে নাই’ এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/ এলকে