ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১২ ৩১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৪:১৪ ৩১ মার্চ ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলমান কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলমান কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সহযোগিতা যেন সবাই সমানভাবে পায় তা দেখতে হবে। এ জন্য তালিকা তৈরি করে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। এই কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

মঙ্গলবার সকালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম সমন্বয় করতে ৬৪টি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সকাল ১০টায় এ ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেটা কেবল বাংলাদেশে নয়। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে এই সমস্যাটা রয়েছে। এখানে ধনী-দরিদ্র, দুর্বল কিংবা শক্তিশালী দেশ, উন্নত বা অনুন্নত সবাই এই পরিস্থিতির শিকার। এমন পরিস্থিতি বোধ হয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনো দেখিনি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে গেছে। বিরাট আকারে একটা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। সেই মন্দা মোকাবিলার চিন্তা এখন থেকেই আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের একটা সুবিধা হলো, আমাদের দেশের মাটি অনেক উর্বর। আমাদের মাটিও আছে মানুষও আছে। 

জাতির পিতার একটি উদ্ধৃতি স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেছিল, এমন বিধ্বস্ত দেশ, ৮২ ভাগেরও বেশি দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে, কীভাবে করবেন? তিনি বলেছিলেন, আমার দেশের মাটি আছে-মানুষ আছে। আমি মাটি ও মানুষকে নিয়েই দেশকে গড়ে তুলবো। আমাদেরও সেই একই কথা।

ফসল ফলানোর যেসব উপকরণ প্রয়োজন তা সরবরাহের জন্য কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বা শিল্প কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। 

সাধারণ ছুটি বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের ছুটিটা একটু বাড়াতে হবে। আমরা ১০ থেকে ১২ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম, এটা ১৪ দিন হতে পারে। সেটা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।

নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠান আমরাই শুরু করেছিলাম। কিন্তু তাও আমাদের বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মানুষের কল্যাণেই এ অনুষ্ঠান না করার অনুরোধ আপনাদের।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো জনগণকে সচেতন করা। সেটা আমরা করতে পারলেও তিন মাসে আমরা এই অবস্থা ধরে রাখতে পেরেছি। সবাই নিজেদের জায়গা থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা পেরেছি। আমরা বিমানবন্দর, নৌ-বন্দর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছি। থার্মাল স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ