তৌফা ও তহুরাকে ছাড়পত্র দেওয়ার তারিখ পেছাল

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

তৌফা ও তহুরাকে ছাড়পত্র দেওয়ার তারিখ পেছাল

 প্রকাশিত: ১৪:০৭ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭  

বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মধ্যে আলোড়ণ সৃষ্টিকারি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা শিশু তৌফা ও তহুরাকে শুক্রবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া এবং তাদের মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে বলে জানান, চিকিৎসক শাহনূর ইসলাম।

এরপর ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম নাসির উদ্দিন বলেন, তৌফা-তহুরার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া কথা ছিল। তবে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু আজ শুক্রবার তিনি সময় দিতে পারছেন না বলে এই তারিখ পেছানো হয়েছে। তবে, পরবর্তী তারিখ কবে হবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

এর আগে, শিশু দু’টির চিকিৎসার তত্ত্বাবধায়ক শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার শাহনূর ইসলাম জানান, তাদের সার্বিক অবস্থা ভালো। তাদেরকে শুক্রবার বেলা ১২টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

তিনি বলেন , তৌফা-তহুরাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও প্রতি মাসে একবার করে তাদেরকে ফলোআপে রাখা হবে। তবে ছয়মাস পর তাদের আবার অস্ত্রোপচার করা হবে।

দু’জনই এখন পুরোপুরি সুস্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদের আগে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিলো। তবে তাদের এলাকার বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তখন তা করা হয়নি। এখন তাদের এলাকার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়া তাদেরকে ছুটি দেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধার জোড়া শিশু তৌফা ও তহুরাকে গত ১ আগস্ট ঢামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. আশরাফুল হক কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সকাল আটটায় শিশু দু’টিকে অস্ত্রোপচারের জন্য অচেতন করি এবং সাড়ে ১০টায় অপারেশন শুরু হয়। তাদের আলাদা করতে সময় লাগে চার ঘণ্টা।

গত বছরে ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় রাজু মিয়া ও সাহিদা আক্তার দম্পতির এ জোড়া শিশুর জন্ম হয়। পরের মাস ৭ অক্টোবর নয়দিন বয়সে জোড়া শিশু দু’টিকে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাদেরকে ভর্তি রাখা হয়। পরে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে জোড়া শিশু দু’টির প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। তখন ছোট একটি অপরেশনের মাধ্যমে তাদের পায়খানার রাস্তা আলাদা করে দেওয়া হয়।

তখন শিশু দু’টির রক্তে সেপটিসেমিয়া ও ওজন ছিল সাড়ে চার কিলোগ্রাম, যা অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত ছিলো না। তারপর পরিচর্যার মাধ্যমে জোড়া শিশু দু’টির ওজন ১০ কিলোগ্রাম ও তাদেরকে অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর কে

Best Electronics