Alexa তুহিন হত্যায় মিলল আঁতকে ওঠা তথ্য, বাবা-চাচা রিমান্ডে

ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

তুহিন হত্যায় মিলল আঁতকে ওঠা তথ্য, বাবা-চাচা রিমান্ডে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১১ ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:২৮ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

যাদের কাছে আশ্রয় পাওয়ার কথা তারাই শিশু তুহিনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এমনকি তার বাবাও এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নির্মম ও বর্বর এই পদ্ধতি অবলম্বন করে পরিবারটি।

সুনামগঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি মিজানুর রহমান জানান, শিশু তুহিনকে কেন মারা হয়েছে, কীভাবে মারা হয়েছে, কতজনে মেরেছে পুরো ঘটনা জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু তারা বলবেন না। ঘটনার পরপর তুহিনের বাবাসহ থানায় নিয়ে যাওয়া ছয়জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করবে সংস্থাটি।

এদিকে তুহিন হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মছব্বির ও প্রতিবেশী চাচা জমশেদ আলীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোল্লা আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শিশু তুহিনকে হত্যার ঘটনায় দুই স্বজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বিকেল পৌনে চারটায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালেদ মিয়ার আদালতে তাদের তোলা হয়। 

পুলিশ জানায়, বিকেলে অ্যাডিশনাল এসপি মিজানুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যাকাণ্ড ও মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলবেন। 

তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, ইয়াছির উদ্দিন, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম, চাচি খাইরুন নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে থেকেই দুইজনকে আদালতে তোলা হয়েছিল।

সুনামগঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি মো. মিজানুর রহমান বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই মামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলব। তবে তুহিনের কয়েকজন স্বজনকে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দির জন্য তোলার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

রোববার মধ্যরাতে উপজেলার রাজানগর ইউপির কেজাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার ভোরে গাছে ঝুলছিল শিশুর তুহিনের লাশ। পেটের মধ্যে ঢুকানো ছিল দুটি ছুরি। ডান হাতটি গলার সঙ্গে থাকা রশির ভেতরে ঢুকানো ছিল। বাম হাতটি ঝুলছিল লাশের সঙ্গে। কেটে নেয়া হয়েছিল শিশুটির কান ও লিঙ্গ। আর তার পুরো শরীর ভেজা ছিল রক্তে। 

খবর পেয়ে সকাল ১০টায় পুলিশ তুহিনের লাশ উদ্ধার করে দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে রাতে ময়নাতদন্তের পর তুহিনের লাশ দাফন করা হয়। নিহত তুহিন উপজেলার রাজানগর ইউপির কেজাউরা গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে।

সোমবার এই ঘটনায় তুহিনের বাবাসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তারা হলেন তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, ইয়াছির উদ্দিন, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম, চাচি খাইরুল নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়া।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার রাজানগর ইউপির কেজাউরা গ্রামের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরের আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তুহিন হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিতে দুই ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। তারা হলেন ছালাতুল ও সোলেমান। তারা সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের লোক। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন শিশুটির বাবাসহ স্বজনরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ