Alexa তুরাগ আর গোলাপ গ্রামের উপাখ্যান

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

তুরাগ আর গোলাপ গ্রামের উপাখ্যান

প্রান্ত মশিউর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৯ ২৯ আগস্ট ২০১৯  

গোলাপ বাগান

গোলাপ বাগান

‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানী
দেব খোঁপায় তারার ফুল’

কপোত-কপোতীর মনের পালে হাওয়া লাগাতেই হয়তো কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার প্রিয় মানুষটির জন্য রচনা করেছিলেন গানটি। ভালোবাসাকে বিশেষ করে নিবেদন করতেই হয়তো স্রষ্টা ফুলের মধ্যে পবিত্রতার এক বিশেষ ছাপ রেখেছেন। তাইতো ফুলকে ভালোবেসেই ‘সাধারণ’ হয়েছে ‘অসাধারণ’, লিখেছে কাব্য, হয়েছে কবি আর করেছে প্রেম নিবেদন!

শহরের ব্যস্তময় জীবনে হয়তো একরাশ ফুলের সুভাষ পাওয়ার সৌভাগ্য খুব কম মানুষেরই হয়। তাই খুব কাছ থেকে ফুলের সৌন্দর্য ভোগ করতে ছুটে চললাম ‘গোলাপ গ্রামে’। ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রাম; যা ‘গোলাপের রাজ্য’ হিসেবে অধিক পরিচিত।

আমরা প্রথমে মিরপুর-১ এ যাই। সেখান থেকে লেগুনা অথবা বাসে করে পৌঁছে যাই ছোট দিয়াবাড়ির বটতলা ঘাটে। ভাড়া জনপ্রতি ৫ টাকা। এটা উত্তরা দিয়াবাড়ি মনে করে ভুল করবেন না। ঘাটে সাদুল্লাহপুর যাওয়ার অনেকগুলো ট্রলার ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রী নিয়ে ট্রলার ছুটে চললো সাদুল্লাহপুরের দিকে। ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। বর্ষাকাল, তাই তুরাগ নদী ছিল পানিতে টইটুম্বুর। দূরে চোখ আটকালো মাছ ধরার সারি সারি ট্রলার আর পালতোলা নৌকা। নিমিষেই চোখে পড়লো কালো মেঘের ঘনঘটা। আকাশে উড়তে থাকা সাদা বকগুলো যেন মেঘের গায়ে মিশে যায়, দূর থেকে মনে হয় সাদা কালোর প্যাস্টেল-তুলির আঁচড়ের বর্ণছটা।

তুরাগ নদী

প্রায় ৪০ মিনিট পর আমরা পৌঁছে গেলাম সাদুল্লাহপুর বাজারে। সকালের নাস্তা সেরে অটো যোগে রওনা হই শ্যামপুরে। এখনেই মূলত গোলাপের বিস্তীর্ণ চাষাবাদ হয়। অটো থেকে নেমেই নিজেকে আবিষ্কার করি ভিন্ন এক জগতে! হ্যাঁ, গোলাপের স্বর্গ রাজ্য। চারদিকে শুধু গোলাপ আর গোলাপ। আমি যত ভেতরে প্রবেশ করি ততই অবাক হই। হারিয়ে ফেলি নিজেকে।

শুধু সাদুল্লাহপুর নয়, আশপাশের শ্যামপুর, কমলাপুর, বাগ্মীবাড়ি গ্রামের গোলাপের রাজ্যে চোখ আটকে যাবে যে কারো। সড়কের পাশে, বাড়ির সামনে এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের সব জায়গাতেই গোলাপ চাষ করা হয়। সকালে গোলাপের বাণিজ্যিক বাগানগুলোতে কাউকে কোনো কাজ করতে দেখা যায় না। তবে দুপুরের পর প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল কাটা, ফুল বাছাই, ফুল ভেজানো, ফুল বাঁধা সবই শেষ করেন সন্ধ্যার আগে। কারণ সন্ধ্যোর পরই জমে মোস্তাপাড়া ও শ্যামপুর ফুল বাজার। যেখানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ফুলের পাইকাররা এসে ফুল কেনেন।

সাদুল্লাহপুরের পাশেই বিরুলিয়া গ্রাম। এখানে পাবেন বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি। পুরোনো বাড়িগুলো তার মাটি সোঁদা গন্ধ আপনাকে ইতিহাসের খেরোখাতা খুলে দিবে চোখের সামনে। গ্রামের শেষ ঠিক মাথায় নদীর তীর ঘেঁষে বাড়িটি জমিদার রজনীকান্ত ঘোষের। সেখানে এখন বাস করছেন রজনীকান্ত ঘোষের বংশধররা। সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন সহজেই!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে