Alexa ‘তুতানখামুন’ কি সত্যিই স্বর্ণের মুখোশ পড়তেন?

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

‘তুতানখামুন’ কি সত্যিই স্বর্ণের মুখোশ পড়তেন?

খাদিজা তুল কুবরা

 প্রকাশিত: ১৩:৪৪ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৪৪ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মানব ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ ছিলেন যাদের অসাধারণ নৈপূণ্য নেতৃত্ত্বের পদচারণা ফেলে গেছেন এই জগতে। এমন অনেকে ইতিহাস গড়েছেন অত্যাচারী শাসক হিসেবে আবার ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করে আছে তাদের অসীম সাহসিকতা ও মানব সভ্যতা কল্যাণের অনুচারী হিসেবে। 'তুতানখামুন' ছিলেন এমন একজন বিখ্যাত  শাসক যিনি শাসন করেছেন তখনকার নতুন রাজ্য মিশরকে। সময়টা ছিলো ১৩৩২ থেকে ১৩২৩ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ। ওই সময়টা পরিচিত ছিলো ১৮তম রাজবংশ হিসেবে। অনেকেই জানতে চান কেমন ছিলেন রাজা তুত? বর্তমানে ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যায় এই জলন্ত নক্ষত্র রাজার বেশ কিছু পরিচয়৷ চলুন জেনে নেয়া যাক তুত সম্পর্কিত তথ্য-

১. তুতানখামুন নামের অর্থ হলো আমুন অর্থ্যাৎ এক জীবন্ত চিত্র। এই আমুন শব্দটি এসেছে এক মিশরীয় দেবতার নামানুসার। যাকে মনে করা হতো সব রাজাদের দেবতা।

২. তুতানখামেনের ছিলো বিখ্যাত এক সোনার মুখোশ।তুতানের মমিতে আবৃত এক স্বর্ণালী মুখোশের চিত্র এখনো উপস্থিত৷ এই মহান রাজা তার স্বর্ণের মুখোশের জন্য অতি পরিচিত হন। অথচ তার সত্যিকার চেহারার কথা আমরা কেউই জানিনা। এই মুখোশ সম্ভবত তার মৃত্যু পরবর্তী মুখোশ। জীবদ্দশায় তুতান এই মুখোশ পড়েছেন কি না এ বিষয়ে কোনো তথ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত।

৩. তুতানখামুনের পিতা-মাতার পরিচয় সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতো না কেউ

সর্বসাধারণের মধ্যে একটি প্রচলিত জল্পনা রয়েছে যে, তিনি ছিলেন সম্ভবত ফেরাউন আখেনতানের পুত্র অথবা পিতৃব্যপুত্র। যিনি ধর্মীয় বিপ্লবের জন্য সর্বপরিচিত ছিলেন।

৪. তার ছেলেবেলায় দেখাশোনা করেছে মায়িয়া নামক এক গৃহচারিকা। অনেকে ধারণা করেন প্রচলিত এই গৃহচারিকা মায়িয়া ও তুতানখামুনের আপন বোন মারেতারিয়েন একই ব্যাক্তি৷ যদি এ সম্পর্ক সঠিক হয় তবে তুতানখামেনের গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে৷

৫. সিংহাসন দখলের সময় তুতানখামেনের বয়স ছিলো মাত্র ৯ বছর। ১৮ তম রাজবংশ হিসেবে তিনি প্রায় ১০ বছর রাজ্য আধিপত্য করেন। তার রাজ্যকালীন সময়ে তুতান আশেপাশের অনেক রাজ্যের সঙ্গে পূর্বের শত্রুতা মিটিয়ে মিত্রতা স্থাপন করেন।

তুতানখামুনের মমি৬. তিনি বিয়ে করেন তার সৎবোন আনখেসেনামুনকে।সম্ভবত অনেকেই শুনে থাকবেন নেফারতিতির নাম। যাকে বলা হতো নারীদের সৌন্দর্য্য। আনখেসেনামুন ছিলেন তার একমাত্র কন্যাসন্তান।

৭. তুতানখামুনের সমাধিতে পাওয়া যায় জমজ দুই কন্যা সন্তানের মমি।এই দু’জন আসলে কে ছিলেন? এ প্রশ্নে বিজ্ঞানীরা অনেক বছর যাবত তথ্য যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হলেন এই দুই জমজ কন্যা সন্তান ছিলো তুতান ও আনখেসেনামুনার কন্যা সন্তান।

৮. মাত্র ১৯ বছর বয়সে তুতানখামুন মৃত্যুবরণ করেন। বিজ্ঞানীরা তুতানের মমি গবেষণা করে তুতানের শরীরে ম্যালেরিয়া পরজীবি শনাক্তসহ সামান্য হাড়ের ব্যাধি খুঁজে পান যেগুলো তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়।

৯. বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী তুতানখামুন বিখ্যাত ফেরাউন হিসেবে পরিচিত তার অতি সুরক্ষিত সমাধির জন্য তুতানের সমাধি পরিপূর্ণ পৃথিবী বিখ্যাত কিছু নির্দশন যেমন, গহনা, আসবাবপত্র, মৃৎশিল্পসহ আরো বেশ কিছু দামীয় নিদর্শন যেগুলো তার সমাধিকে বিখ্যাত করে রেখেছে যুগের পর যুগ ধরে।

১০. তুতানখামুনের মৃত্যুর কারণ অজানা আজ পর্যন্ত।পূর্ব ইতিহাস ঘেটে তার মৃত্যু সম্পর্কে তেমন কোনো সঠিক প্রমাণসহ তথ্য না পেলেও বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন তার মৃত্যুর কারণ ছিলো ম্যালেরিয়া ভাইরাস এবং হাড়ের ব্যাধি। এছাড়াও বিজ্ঞানীরা তার বাম পায়ে একটি ক্ষতের চিহ্ন শনাক্ত করেন।

১১. তুতানখামুনের সমাধি আবিষ্কৃত হয় ১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক হাওয়ার্ড কার্টার কর্তৃক।১৯২২ সালের ৪ নভেম্বর কার্টার টিমের এক পানিবাহক ছেলে একটি পাথরের সঙ্গে পদস্খলিত হয়ে পড়ে যায়। পরবর্তীতে দেখা যায়, ঠিক ওই জায়গাটিতে একটি উর্ধ্বমুখী সিড়ির মুখের খোঁজ পাওয়া যায় যেটি অনুসরণ করলে তুতানের সমাধির দেখা মিলে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস