তীব্র শীতে বাঁচতে সোয়েটার নয় তাদের প্রয়োজন হয় ভদকা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭,   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তীব্র শীতে বাঁচতে সোয়েটার নয় তাদের প্রয়োজন হয় ভদকা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৩ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:০৮ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হাড় কাপানো শীত বুঝি এসেই গেলো! গত দুই দিনে শীত তেমনই আভাস দিচ্ছে। শীত মানেই কাজকর্মে অলসতা, রোগব্যাধিসহ নানা সমস্যা। তবে আমরা হয়ত বছরের দুই থেকে তিন মাস শীত উপভোগ করি। তবে কখনো ভেবে দেখেছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ শীতপ্রধান দেশগুলোর মানুষ কীভাবে বেঁচে আছেন?

শীত আসতে না আসতেই কত প্রস্তুতি আমাদের। মধ্য পৌষে গিয়ে দেখা যায় শৈত্যপ্রবাহ। উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ প্রকোপ নামে। তবে চমকে যাওয়া ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীর এমন কিছু দেশ আছে, যেসব দেশে শীত থিতু হয়ে থাকে বারো মাস। জেনে নিন সেসব দেশ সম্পর্কে-

আন্টার্টিকা
পৃথিবীর সবচেয়ে ঠাণ্ডার দেশ আন্টার্টিকা। সারা বছরই সূর্যের টিকিই দেখতে পাওয়া যায় না দেশটিতে। সেখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হল -৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  

রাশিয়া
মাত্র ২ মাসের জন্য সূর্যের মুখ দেখেন রাশিয়ানরা। সেখানে গরমকালে তাপমাত্রা থাকে -৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরা মজার বিষয় হলো শরীর গরম রাখতে সোয়েটার নয় প্রয়োজন হয় ভদকা।

কানাডা
সারা বছরই এই দেশে তীর্যকভাবে আলো দেয় সূর্য। বছরের ৫টা মাসই শীতকাল অনুভূত হয় কানাডাতে। যখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশ্য গরমকালে তাপমাত্রার কোনো হেরফের হয় না বললেই কিন্তু চলে। মাঝে মাঝে তো স্টেট অব ইমার্জেন্সি ঘোষণা দিতে হয়। সেনাদলও নামাতে হয় বরফ পরিষ্কার করার জন্য। তুষার ঝড় তো আরো মারাত্মক, এই সময়ে তাপমাত্রা আরে কমে যায়। মাটিও নাকি জমে যায়। এখানে একটা ভবনের ভিত্তি নাকি দিতে হয় ভূপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৭ ফুট নিচে কারণ ৭ ফুট পর্যন্ত মাটি ঠাণ্ডায় জমে যেতে পারে। 

কাজাকস্তান
অত্যাধিক তুষারপাত এবং তার সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি এই অঞ্চলে সব সময়তেই ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। তবে গরমকালেও এই তাপমাত্রার খুব একটা হের ফের না হলেও শীতের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিতেই থাকেন দেশবাসী।

আমেরিকা
উত্তর আমেরিকাতে সচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। এই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অত্যাধিক কম তাপমাত্রার প্রভাব পরে দেশবাসীর ত্বকের ওপরেও। এই দেশের সবচেয়ে শীতলতম স্থান হল আলাস্কা।

গ্রিনল্যান্ড
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলো গ্রিনল্যান্ড। সূর্যের আলো এই দ্বীপে প্রায় আসে না বললেই চলে। বছরের প্রতিটা মাসই বরফ দিয়েই ঢাকা থাকে এই দ্বীপ। ভৌগলিক অবস্হান মেরু অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে সূর্যের দেখা পাওয়া যায় মাত্র ৩ ঘণ্টা বা তার একটু বেশি কিংবা কম সময়। ফলে সেখানকার শীতকাল বা শৈত্যপ্রবাহকাল খুব দীর্ঘ সময় হয়ে থাকে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এক পরিবেশ যেনো কালো চাদরের মতো ঝুলে থাকে গোটা গ্রিনল্যান্ডে। গরমকালের সব থেকে উষ্ণতম তাপমাত্রা হল -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

আইসল্যান্ড
এই দেশের আবার দুই মেরুতে দুই ধরণের আবহাওয়া অনুভূত হয়। দেশের দক্ষিণ দিকের তুলনায় উত্তর দিকে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। কখনো তাপমাত্রা নেমে -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চলে যায়।

মঙ্গোলিয়া
মধ্য এশিয়ার একটি দেশ হল মঙ্গোলিয়া। গরমকালে এই দেশের তাপমাত্রা থাকে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভেবে দেখুন গরমকালেই এই তাপমাত্রা। তবে শীতকালে কখনও তাপমাত্রা নেমে -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও চলে যায়।

ফিনল্যান্ড
স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সবচেয়ে শীতলতম দেশ হলো ফিনল্যান্ড। শীতকালে এই দেশের তাপমাত্রা থাকে ০ ডিগ্রি থেকে -৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনো শীতকালে তাপমাত্রা-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে -৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও নেমে যায়। দেশটির উত্তরাঞ্চলে বছরের প্রায় ২০০ দিনই শীত থাকে। মাঝেমধ্যে শীত এত চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাপমাত্রা এমনকি -৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও নেমে যায়। দিনের পর দিন সূর্যের আলোর অভাবে অন্ধকার হয়ে থাকে দেশটি। 

এস্তোনিয়া
এই লিষ্টে দশমতম স্থানে রয়েছে এই দেশটি। ফিনল্যান্ড এবং বাল্টিক সি-এর মাঝখানে অবস্থিত এই দেশ। শীতের চটে দেশবাসীরা নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের কাজ পর্যন্ত করতে পারেন না। পুরো শীতকালব্যাপি এখানে তাপমাত্রা থাকে -৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমকালে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৫ দিগ্রি সেলসিয়াসে। বর্ষা এই দেশে প্রায় নেই বললেই চলে। 

খুব কম বৃষ্টিপাত হয়ে এই দেশে। উত্তর ইউরোপের এই দেশটিতে মাত্র ১৩ লক্ষ মানুষের বাস। এ অঞ্চলে শীতকালেই যে শুধু ঠাণ্ডা থাকে তা কিন্তু নয়, বরং বছরের ১২ মাসই থাকে তীব্র শীত। যেকোনো সময়ই যেকোনো জায়গায় তুষারপাত হতে পারে এ দেশে এবং এজন্য শীতকালের অপেক্ষা করতে হয় না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস