তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

 প্রকাশিত: ১৬:৩৮ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৩৮ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নির্মাণ ব্যয় তিন গুণ বৃদ্ধি করেও শেষ রক্ষা হলো না লালমনিরহাটের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের। উদ্বোধনের দুদিন আগেই সেতুটির সংযোগ সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। অথচ বৃহস্পতিবার দিনগত মধ্যরাতে সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের ইচলী এলাকার ব্রিজ ধসে পড়েছে।

জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অধিকতর উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীক রুট বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিস্তা নদীর ওপর কাকিনা-মহিপুর ঘাটে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউপির রুদ্ধেশ্বর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউপির মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল এ সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এরই মধ্যে সেতুর কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে বাস্তবায়নকারী কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দফতর।সেতুর উত্তর পাশে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের ইচলী এলাকার একটি ব্রিজের মোকা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন ওই এলাকায় নৌকায় করে চলাচল করছেন পথচারীরা। এর আগেও ব্রিজের মোকা ধসে পড়লে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে সংশ্লিষ্ট দফতর।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ১৬টি পিলার, ২টি অ্যাপার্টমেন্ট ও ১৭টি স্প্যানে ৮৫টি গার্ডারের ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে। একই টাকার মধ্যে সেকুটি রক্ষার জন্য উভয় পাশে ১৩০০ মিটার নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর সঙ্গে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা থেকে সেতু পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৮০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২টি প্যাকেজে ৪ কোটি ৪৬ লাখ এবং এ সড়কে ২টি ব্রিজ ও ৩টি কালভার্ট নির্মানে ৩টি প্যাকেজে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেতু থেকে রংপুরের অংশে ৫৬৩ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় এক কোটি ৪২ লাখ টাকা। 
প্রথমে সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে এক কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও এই ৫ কিলোমিটার সড়কে ৩ দফায় মোট ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধস থেকে ব্রিজকে রক্ষা করতে পুনরায় তিন কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। 

এ সংস্কার কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কামাল অ্যাসোসিয়েট স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছায়া ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করে। কাজ শেষ না হতেই বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ইচলী এলাকার ব্রিজের মোকা ধসে পড়লে স্থানীয়রা বালুর বস্তা ফেলে স্রোত ঠেকানোর চেষ্টা করেন। 

সেতু এলাকার নুরুজ্জামান আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে এই প্রকল্পের অর্থে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের পকেট মোটা তাজা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারের হুমকি দিত তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, নদী প্রতি মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করে থাকে। সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা যখন করা হয়, সে সময়ের গতিপথ অনুযায়ী সেতু ও নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এটার দায় তার নয়। উল্টো পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

লালমনিরহাট ডিসি শফিউল আরিফ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যথা সময়ে হবে। ধসে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামত বা সাময়িক যোগাযোগের জন্য ব্যবস্থা করতে প্রকৌশল বিভাগ কাজ করছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম