তিস্তা ব্যারাজের ছয় কোটি টাকার রাউটার চুরি
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=193201 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তিস্তা ব্যারাজের ছয় কোটি টাকার রাউটার চুরি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৫ ১০ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৬ ১০ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিস্তা ব্যারাজের জলকপাট নিয়ন্ত্রণে স্থাপিত অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেমের ছয় কোটি টাকার রাউটার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যারাজের অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেমের সাতটি রাউটারের মধ্যে ছয়টি রাউটার চুরি নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যার প্রকল্প বিল ধরা হয়েছিল ছয় কোটি টাকা। 

শুক্রবার সকালে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারাজ যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুজ্জোহা ডেইলি বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ফাস্টকম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেমটি চালু করা হয়েছিল তিস্তা ব্যারাজের জলকপাট নিয়ন্ত্রণের জন্য। ২০১৮ সালের জুন মাসে এটি স্থাপন দেখানো হয়। 

স্থাপনের পর ফাস্টকম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপসের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজের ৫২টি জলকপাট অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেম চালু করে। সেখানে মোট সাতটি রাউটার স্থাপন করা হয়।

এ অবস্থায় ১৮ মাস যেতে না যেতেই অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেমটি সঠিকভাবে কাজ করেনি। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফাস্টকম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অটোমেশন কাজের চুক্তি শেষ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে তাদের কাজের পুরো বিল তুলে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, তিস্তা ব্যারাজের মোট জলকপাট ৫২টি। এর মধ্যে মূল নদীর পানি প্রবাহের জন্য রয়েছে ৪৪টি ও সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহের জন্য রয়েছে আটটি জলকপাট। তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের তৎকালীন সময় প্রতিটি জলকপাট নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যুত-চালিত সুইস সিস্টেম ও ম্যানুয়াল সিস্টেম রাখা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৩ সালে তিস্তা ব্যারাজের জলকপাট নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ-চালিত সুইস সিস্টেম অচল হয়ে যায়। অচল হয়ে যাওয়া তিস্তা ব্যারাজের বিদ্যুত-চালিত সুইস রুম নতুনভাবে স্থাপন করতে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুজ্জোহা প্রকল্প তৈরি করেন। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেম ঠিকমতো কাজ না করায় এর সাতটি রাউটারের মধ্যে ছয়টি রাউটার পরিকল্পিতভাবে চুরি করার কথা বলা হলেও এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ তিস্তা ব্যারাজ হলো কেপিআই ওয়ান। এখানে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা টহল থাকে। এ অবস্থায় কিভাবে মূল্যবান রাউটার চুরি হয়। ছয়টি রাউটার চুরি দেখিয়ে অপর একটি রাউটার খুলে রাখা হয় বলে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারাজ যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুজ্জোহা বলেন, অ্যাপসের মাধ্যমে অটোমেশন অপারেটিং সিস্টেম চালু করা হয়। ব্যারাজের ওপর যন্ত্রপাতির সঙ্গে সাতটি রাউটার স্থাপন করা ছিল। রাউটারগুলো কিভাবে চুরি হয়েছে, না কেউ খুলে নিয়ে গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

হাতীবান্ধা থানার ওসি উমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় দোয়ানী আইসি ক্যাম্পে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুজ্জোহা একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরে মামলার জন্য এজাহার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি তারা শুক্রবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দায়ের করেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে