Alexa তিস্তার চরে ভুট্টা চাষ

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

তিস্তার চরে ভুট্টা চাষ

নীলফামারী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১৯:০০ ২৩ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৩:৫৫ ৬ মার্চ ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জেলার ডিমলা উপজেলার তিস্তার চরের পূর্বছাতনাই গ্রাম।এক সময় পড়ে থাকতো মরুভূমির মতো। এখন সেই বালির গ্রামটিও আর পতিত নেই। কৃষকরা ভরে ফেলেছেন ভুট্টার আবাদে। সবুজে ভরা গ্রামটির কোনো অংশ বাদ পড়েনি ভুট্টার আবাদ থেকে।

কৃষক আবু সাঈদ বলেন, বর্ষায় নদীর পানিতে ভরে থাকে গ্রামটি। শুকনো মৌসুমে নদীর বালিভরা  জমি এক সময়ে পড়ে থাকতো মরুভুমি হয়ে। এখন ওই বালিভরা জমিতে আমরা আবাদ করছি বিভিন্ন জাতের ভুট্টা। ফলনও ভালো হচ্ছে।
আবু সাঈদ জানান, বালির জমিতে বাদাম, পিয়াজসহ অন্যান্য ফসল ফলানোর চেষ্টা করে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় বিকল্প ফসলের দিকে ছুটে কৃষক। আর বিকল্প হিসেবে ভুট্টার চাষে সফল তারা।
বাচ্চু মিয়া বলেন, অন্য ফসলে লোকসান হওয়ায় সবাই ঝুঁকে পড়েছেন ভুট্টার আবাদে। গত কয়েক বছর ধরে আবাদ করে কৃষকরা অনেকটাই সচ্ছল হয়েছেন।
আব্দুল লতিফ বলেন, শুধু আমাদের গ্রামই নয়, তিস্তার সব চরের গ্রামে এখন ব্যাপক ভুট্টার চাষ হচ্ছে। এতে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে।

তারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে আবাদ করে প্রতি একরে ১২৫ মণের মতো ভুট্টা পাচ্ছেন কৃষক। প্রতি মণ ভুট্টার বাজার দর ৬০০ টাকা হিসাবে একরে ৭৫ হাজার টাকার ফসল পাওয়া যায়। সেখানে একর প্রতি উৎপাদন খরচ হয় ২৪-২৫ হাজার টাকা।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ভুট্টার আবাদ চরের কৃষকদের ভাগ্য বদল করেছে। তারা ভুট্টার আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। আগে এসব জমিতে অন্য ফসল ফলাতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন তারা। এজন্য কৃষকদের অভাব অনটন লেগেই থাকতো। এখন আর সেই অভাব নেই কৃষকদের মধ্যে। ভুট্টার আবাদে স্বাবলম্বী হয়েছেন, দিন দিন আরো উন্নতি করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় এবারে ১৯৪৫০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ, ৭০ হাজার, ১৮৮ মেট্রিক টন। সেখানে আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার, ৩৯৫ হেক্টরে। চরাঞ্চলে বিকল্প ফসলের সুযোগ না থাকায় সেখানে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে ভুট্টা চাষের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে। জেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের গ্রামে ভুট্টা এখন প্রধান ফসল। ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলের অনেক কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর