Alexa তিন বাল্যবন্ধুর মঞ্চে তরুণরা

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

যশোর-সদর

তিন বাল্যবন্ধুর মঞ্চে তরুণরা

 প্রকাশিত: ১৬:৫৫ ২২ মার্চ ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কয়েক দশক ধরে যশোরের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিন বাল্যবন্ধু তরিকুল ইসলাম, খালেদুর রহমান টিটো ও আলী রেজা রাজু। কখনও তারা একসঙ্গে আবার কখনো বিপরীত মেরুতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তরিকুল ইসলাম বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকলেও বয়সের ভার ও রোগ-শোকে কাহিল। আলী রেজা রাজু মারা গেছেন দুই বছর হতে চলছে। আর খালেদুর রহমান গ্রুপিং-লবিংয়ে টিকতে না পেরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।

প্রবীণ এই তিন নেতার জায়গা দখল করে নিয়েছেন তরুণরা। তরুণরা রাজনীতি, দলের পদে, কিংবা জনপ্রতিনিধির আসনেও বসে গেছেন। তবে তিন বন্ধুর মধ্যে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন তরিকুল ইসলাম। বিএনপির এই নেতার ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক। যশোরের বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তরিকুল ইসলাম এই পদ বাগিয়ে দিয়েছেন। আর পদে আসীন হয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পিতার উত্তরসূরী হিসেবে যশোর জেলা জুড়ে রাজনীতি দেখভাল করছেন। নেতারা মনে করেন তরিকুল ইসলামের কারণেই পুত্র অমিত উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো নেতা হয়েছেন। এজন্য বিএনপির একটা অংশ তা মেনে নিতে পারছেন না। যেটা প্রকাশ্যে অমিত দলের এক আলোচনা সভায় বলেছেন। গত ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অমিতের বক্তব্য ছিল এমন, দলের নেতারাই আমার বাবার মৃত্যু কামনা করেন।

জানা যায়, যশোরে অমিত বিরোধী শক্তিশালী গ্রুপ রয়েছে। তরিকুল ইসলামের ভাইপো যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মূলত এই গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। মারুফুল ইসলামের সঙ্গে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব ও জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহম্মেদ। বিভিন্ন সময় তাদের পৃথক কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তবে দুই গ্রুপেরই বেশিরভাগ তরুণ নেতা।

এদিকে, যশোরের রাজনীতির আরেক প্রভাবশালী খালেদুর রহমান টিটো এখন সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির রাজনীতি ছেড়ে ১৯৯০-এর দশকে যোগ দেন বিএনপিতে। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করেন। পরে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি নৌকার টিকিটি পেয়ে এমপি হন। এরপর যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের সঙ্গে তার বিরোধ হয়।এ অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নতুন মুখ হিসেবে কাজী নাবিল আহমেদ-র হাতে নৌকা তুলে দেয়। শাহীন চাকলাদারও নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বঞ্চিত হলে শাহীনকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলের সমর্থন দিলে জয়ী হন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শাহীন চাকলাদারের বিপক্ষে ভোট করেন খালেদুর রহমান টিটোর ছেলে মাশুক হাসান জয়। এতে শাহীন-টিটো ও তার ছেলে জয়ের পূর্ববিরোধ তীব্র হয়। আস্তে আস্তে রাজনীতিতে চুপচাপ হয়ে যান টিটো।মাঠে চাঙ্গা হন শাহীন চাকলাদার ও সদ্য এমপি হওয়া কাজী নাবিল। যাদের তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন মাঠের কর্মীরা।

অন্যদিকে, নির্বাচনের দুই বছরের মাথায় ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই মারা যান যশোরের আরেক প্রভাবশালী রাজনীতিক আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলী রেজা রাজু। এসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শাহীন ও নাবিল দুই গ্রুপ। রাজুর অনুসারীরা তখন শাহীন চাকলাদার ও কাজী নাবিল আহমেদ-র সঙ্গে মিশে যায়। এভাবে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের বিপরীতে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ঘটছে যশোরে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর