Alexa তিন বছর পর বেরিয়ে এলো শরিফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী

ঢাকা, সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

তিন বছর পর বেরিয়ে এলো শরিফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৫৯ ১৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৭ ১৭ নভেম্বর ২০১৯

নিহত শরিফুল ইসলাম শরিফ

নিহত শরিফুল ইসলাম শরিফ

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর। কুমিল্লা সদর থেকে শরিফুল ইসলাম শরিফের মরদেহ উদ্ধার করে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। তদন্তের পর পুলিশ জানায়, ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ আর ভাঙ্গা হাত দেখে কিছুতেই বিষয়টি দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি শরিফের বাবা সিরাজুল হক। অবশেষে তিন বছর পর পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো শরিফ নিহত নয়, খুন হয়েছিলেন।

২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর কুমিল্লা আদালতে হত্যা মামলা করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশকে ফের তদন্তের নির্দেশ দেয়। পুলিশ এবারো ট্রেন দুর্ঘটনার প্রতিবেদন দেয়।

নিহত শরিফের বাবার নারাজি আবেদনে মামলার তদন্তভার কুমিল্লা পিবিআইকে দেয় আদালত। দীর্ঘ তদন্তে মূল রহস্যভেদ করল পিবিআই। ট্রেন দুর্ঘটনা নয়, প্রেমের কারণে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় শরিফকে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা পিবিআই’র ওসি মো. মতিউর রহমান জানান, সদর দক্ষিণ উপজেলার উৎসব পদুয়া গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে শরিফের প্রেম ছিলো। ১৪ নভেম্বর ওই তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে নিহত শরিফের প্রেমিকা।

নিহত শরিফের প্রেমিকা জানায়, শরিফের সঙ্গে তার পরিচয় হয় মামা আবু তাহেরের মাধ্যমে। কিন্তু তাদের প্রেম মেনে নিতে পারেননি আবু তাহের। তিনি শরিফকে সরে যেতে বলেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তার (প্রেমিকা) বাড়িতে যান শরিফ। ওই সময় তার আরেক মামা বিষয়টি দেখে ফেলেন। তিনি শরিফকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিকা আরো জানায়, ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর শরিফকে গ্রামের পাশের রেল লাইনে আসতে বলে সে। ওই সময় আবু তাহেরসহ কয়েকজন শরিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

ওসি মতিউর আরো জানান, নিহত শরিফের প্রেমিকাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার মামা আবু তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/জেএস/টিআরএইচ/এসএএম