তিন বছর পর পুলিশের জালে ফাঁসল আসামিরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৫ ১৪২৭,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

চাঞ্চল্যকর মুন্নী হত্যাকাণ্ড

তিন বছর পর পুলিশের জালে ফাঁসল আসামিরা

জালালউদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:২৫ ৬ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১২:২৯ ৩১ জুলাই ২০১৯

ত্রিভুজ প্রেমের বলি মুন্নী আক্তার। ফাইল ছবি

ত্রিভুজ প্রেমের বলি মুন্নী আক্তার। ফাইল ছবি

২০১৬ সালের ১৩ মে, ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মুন্নী আকতার। পরদিন সিতাকুণ্ড ইকো পার্ক থেকে একটি অজ্ঞত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পত্রিকায় ছবি দেখে মুন্নীর মা হোসনে আরা বেগম জানান মরদেহটি তার মেয়েরই। 

নিখোঁজ হওয়ার পর হোসনে আরার সঙ্গে মুন্নীকে খুঁজেছেন মুন্নীর চার বন্ধু জ্যোতি, মারুফ, সজিব, নাসরিন। এমনকি মরদেহের ময়নাতদন্ত থেকে দাফন পর্যন্তও সবাই ছিলেন শোকাহত মায়ের পাশেই। এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। কোথাও নেই তারা। যেন মুন্নীর মতোই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেছে সবাই।

হোসনে আরা বেগম বলেন, কে জানতো যাদের সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে খুঁজে বেড়িয়েছি, তারাই আমার মেয়েকে খুন করে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে গেছে?

২০১৬ সালের ৩ আগস্ট, হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর নগরীর পোর্ট কলোনি থেকে আটক করা হয় মুন্নীর সাবেক প্রেমিক রমজান আলী রাহাতকে। তার দেয়া তথ্যে আটক করা হয় মুন্নীর বান্ধবী ফাহমিদা জাহান জ্যোতিকেও। 

পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রাহাত জানান, ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই খুন হন মুন্নী। মারুফুল ইসলাম, জ্য্যেতি, সজিবুল চৌধুরী, নাসরিন আক্তার, রমজান আলী রাহাত মিলে ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা করে খুন করে মুন্নীকে। বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ইকো পার্কে নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাহাত ও মারুফ। পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন নাসরিন, সজিবুল, জ্যোতিও।

জবানবন্দিতে রাহাত জানান, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ার সময় তার সঙ্গে মুন্নীর প্রেম হয়। কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর মুন্নী মারুফের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়ায়। মারুফ নাসরিনের প্রেমিক। তাই প্রতিশোধ নিতেই খুন করা হয় মুন্নীকে।

২০১৯ সালের ২৬ জুন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর পলাতক আরো দুই আসামি মারুফ উল ইসলাম, নাসরিন আক্তারকে নগরীর খুলশী থেকে গ্রেফতার করেন চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। এ মামলার অপর আসামি সজিবুল চৌধুরী এখনো পলাতক আছেন।

তিনি জানান, আসামিদের ঠিকানা না থাকায় তাদের গ্রেফতার না করেই চার্জশিট দেয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের ঠিকানা বের করা হয়েছে।

সিতাকুণ্ড থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাত্র ছয় দিনে মুন্নী হত্যা মামলার পলাতক তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধীরা যতই চালাক হোক। তারা কোনো না কোনো সূত্র রেখেই যায়। আমরা সেই সূত্র ধরেই এগিয়েছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর