Alexa তিন চিকিৎসকেই চলছে পুরো হাসপাতাল

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

তিন চিকিৎসকেই চলছে পুরো হাসপাতাল

আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২১ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:২৪ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ছবি

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা হাসপাতালটি উপজেলার চার লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন চিকিৎসক, কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে যেন নিজেই রোগী। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, আছে শুধু বড় বড় স্থাপনা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অফিস জানায়, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের ২১টি পদ থাকলেও রয়েছেন তিনজন। অফিস সহকারীর পাঁচটি পদে আছেন দুজন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পাঁচটি পদে আছেন একজন। সুইপারের পাঁচটি পদের মধ্যে চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। টেকনিশিয়ান থাকলেও দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিনটি বিকল। প্রায় এক যুগ ধরে জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

বর্তমানে হাসপাতালে যে তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তাকেও দাফতরিক কাজের পাশাপাশি রোগী দেখতে হয়। দুইজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চরম সংকটে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

উপজেলার আমিরাবাদ ইউপির সোনাপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার বলা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে। প্রতিদিন গড়ে ৬৫-৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে গড়ে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়।

তিনি আরো জানান, দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক না থাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

সূজাপুর গ্রামের হাড়ভাঙা রোগী পেয়ারা বেগম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট। সোনাগাজী উপজেলা সদরে ভালো কোনো এক্স-রে মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, চিকিৎসক সংকট ও এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চরম সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর