তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের একইভাবে মৃত্যু

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের একইভাবে মৃত্যু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫১ ৪ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৩ ৪ এপ্রিল ২০২০

মা ও ছেলের মরদেহ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

মা ও ছেলের মরদেহ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল কিন্তু বুকের মানিক বাড়ি ফিরে এলো না। দুশ্চিন্তায় মগ্ন মা সন্তানের খোঁজে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্থানীয় ইটভাটার পাশের মাঠে ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন। এগিয়ে গিয়ে ছেলের শরীরের হাত দিতেই মায়েরও মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক দুটি মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টাও চালায় প্রভাবশালীরা।

শুক্রবার রাতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের কামারপাড়া ইউপির নুরপুর গ্রামে এসএসবি ইটভাটার পাশে এমন ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- ওই গ্রামের বাদল চন্দ্র সরকারের স্ত্রী সাধনা রানী ও তাদের ছেলে উৎপল কুমার।

স্থানীয়রা জানান,  শুক্রবার বিকেলে প্রতিবেশী মনি মিয়ার জমিতে কীটনাশক দিতে যান উৎপল। ওই সময় পাশের এসএসবি ইটভাটার পাশে পড়ে থাকা অবৈধ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু হয় তার। সন্ধ্যা হওয়ার পর উৎপল বাড়ি না ফেরায় ছেলেকে খুঁজতে বের হন মা সাধনা রানী। ভাটার পাশের মাঠে ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন। ছেলেকে উদ্ধার করতে হাত দিতেই তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দুটি মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে অপচেষ্টা করেন প্রভাবশালীরা। তবে স্থানীয়রা পুলিশকে অবগত করলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় যুবক প্লাবন ইসলাম জানান, সাত থেকে আট মাস আগে তড়িঘড়ি করে ইটভাটা চালু করেন এসএসবি ব্রিকস-এর মালিক শহিদুল ইসলাম বাবলা। ওই সময় পাশের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বাঁশের খুঁটির সহায়তায় অবৈধভাবে ইটভাটার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ নেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে জমির মালিক অনেক অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কোনো সুরাহা পাননি তিনি। মা ও ছেলের মৃত্যুর পর ভাটার মালিকসহ সব কর্মচারী গা ঢাকা দিয়েছে।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি মাসুদার রহমান বলেন, মা ও ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই সময় দুটি মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ