তিন কারণে ইতালি এখন মৃত্যুপুরী

ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তিন কারণে ইতালি এখন মৃত্যুপুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:০১ ২৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৯:০৪ ২৯ মার্চ ২০২০

মাত্র ৩৬ দিনে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে

মাত্র ৩৬ দিনে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ইতালি। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এই মহাবিপর্যয়। বেড়েই চলেছে মৃত্যু। চীনে তাণ্ডব চালিয়ে এখন ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ইতালিতে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো ৮৮৯ জন মানুষ মারা গেছেন। ইতালির স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, মাত্র ৩৬ দিনে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

নানা উদ্যোগের পরও করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মুখ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারছে না ইতালি। প্রতিদিন যে হারে শত শত মানুষ মরছে, তা শিউরে ওঠার মতোই। কম সময়ে ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ার প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথমত, ইতালির উত্তর অংশের বেশিরভাগ এলাকায় মার্চের শুরুতেই লকডাউন জারি করা হয়েছিল। অবস্থা অবনতি হতে থাকলে ৯ মার্চ রাতের দিকে পুরো ইতালিকেই সেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে। কিন্তু দেশটির মানুষ তা মানেননি। লকডাউন না মানলে জেল-জরিমানার ঘোষণাও দেয়া হয়। জরিমানার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় ৩ লাখ টাকায় ঠেকেছে। তারপরও মানুষকে ঘরে রাখা যায়নি। এ কারণেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হু-হু করে বেড়েছে।

ইতালিতে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই বৃদ্ধ। অনেকেই হয়তো জানেন, জাপানের পরেই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধ মানুষের বসবাস ইতালিতে। দেশটিতে মানুষের গড় বয়স ৭৮ বছর। আর করোনা বয়স্ক মানুষদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এটিকেই প্রধান কারণ মনে করছেন অনেকেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই কারণে করোনায় আক্রান্তদের বাঁচানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতালিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণে দেশটিতে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ হাজার মানুষকে টেস্ট করা হচ্ছে। যারা করোনা পরীক্ষাে করছে তাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। একটা সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না প্রয়োজনীয় লোকবল। সে কারণে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট করতেও পারেনি। তাতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে হু হু। বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। তবে আশার বিষয় হচ্ছে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। হয়তো চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে মৃতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে