Alexa তিতাস কর্তাদের ম্যানেজ করেই অবৈধ সংযোগ

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

তিতাস কর্তাদের ম্যানেজ করেই অবৈধ সংযোগ

 প্রকাশিত: ১২:৪৪ ২৩ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১২:৫৯ ২৩ মার্চ ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তুরাগ থানার বাউনিয়া এলাকায় বহুদিন ধরেই চলছে গ্যাস নিয়ে প্রতারণা। ঠিকাদার ও গ্রাহকদের আতাতে চলছে বৈধ গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য। তিতাস কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে দিনের পর দিন প্রতারক চক্র এসব ঘটনা ঘটালেও, এলাকায় কখনোই দেখা যায় না তাদের অভিযান।

এতে অপচয় হচ্ছে বহুমূল্যের সীমিত মজুদ থাকা গ্যাস। যে কারণে সঠিকভাবে গ্যাস পাচ্ছেন না বৈধ গ্রাহকরা। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। অবৈধ সংযোগের ফলে বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা ধরণের ঝুঁকিও।

মরচে পরা লোহার পাইপ, সাধারণ পানির পাইপ কিংবা নিম্নমানের প্লাস্টিকের পাইপ লাগিয়েই দেয়া হচ্ছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম টাকায় সংযোগ পাওয়ায় এলাকার মানুষও তিতাসে না গিয়ে দারস্থ হচ্ছেন এসব অবৈধ ঠিকাদারদের কাছে। এতে দিন দিন এই এলাকার বাসাবাড়ি ও অফিস কারখানায় ছড়িয়ে পড়ছে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ।

তুরাগের বাদালদি, বাউনিয়া, দলিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে বিভিন্ন অসাধু চক্রের প্রতারণা বাণিজ্য এবং বৈধ গ্রাহকদের দুর্দশা চরমে উঠেছে।

এসব সংযোগের কারণে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। দিনে কখনো কয়েক ঘণ্টা, কখনোবা ২৪ ঘণ্টাই থাকছে না গ্যাস। ফলে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার বৈধ গ্যাস গ্রাহকরা।

স্থানীয় গৃহিনী জুথি পারভিন বলেন, গ্যাস সংকটে সময় মতো রান্না করতে পারি না। এতে খাবার না খেয়েই অফিসে যেতে হয় চাকুরেদের। না খেয়ে থাকতে হয় বাচ্চাদেরও। গ্যাস সংকটে কারণে সকালের খাবার তৈরি করতে হয় রাতে। সময় মতো রান্নাবান্নায় কষ্টের সীমা থাকে না। কখনো কখনো শুকনো রুটি কলা খেয়েই পার করতে হয় দিন।

বহুতল ভবন থেকে শুরু করে টিনশেড আবাসিক বাসাবাড়ি এমনকি বাণিজ্যিক কিছু কলকারখানাতেও দেয়া হয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। ঘুষের বিনিময়ে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই এমন গ্যাস সংযোগের কিছু তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

প্রতারণার এই জালে জড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাড়ির মালিকরাও। ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত গ্যাসের মূল্য আদায় করা হলেও, সে টাকা জমা হচ্ছে না রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।

হিসেব করে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দুই চুলার গ্যাস বিল ৮৫০ টাকা করে একটি তিন ইউনিটের ছয়তলা ভবন থেকে প্রতিমাসে ৫৩ হাজার ৫৫০ টাকা গ্যাস বিল আদায় করা হয়। যা বছরে দাঁড়ায় ৬ লাখ দুই হাজার ৬০০ টাকা। তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে না গিয়ে, যাচ্ছে বাড়ির মালিকের হাতে।

অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, বাউনিয়া বাদালদি এলাকার এস এম ওয়াশিং লিমিটেড নামের একটি ড্রাইওয়াশ কারখানা মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার করে আসছেন অবৈধ গ্যাস সংযোগ। আর এ জন্য স্থানীয় কিছু রাঘববোয়ালকে প্রতিমাসে দেয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের মাসোহারা।

মাসোহারার ভাগ নেয়া এসব রাঘববোয়ালদের তালিকায় আছে স্থানীয় কিছু নেতা, পুলিশ, এমনকি সাংবাদিকও।

এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি এস এম ওয়াশিং লিমিটেডের মালিককে। তবে কারখানার শ্রমিকদের কথায় পাওয়া যায় অভিযোগের সত্যতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, অনেকদিন ধরেই এই ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। অবৈধ গ্যাসের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমাদের মালিক প্রতিমাসে এলাকার হোমরাচোমরা নেতাদের সঙ্গে টাকা লেনদেন করেন।

মালিককে না পাওয়া গেলেও, সন্ধান মেলে কারখানার ম্যানেজার মাসুদের। তিনি প্রথমে হুমকি-ধামকি দিয়ে কারখানার ভেতর থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টায় নানান জায়গায় ফোন করেন। কেউ সরাসরি না আসলেও, এক সাংবাদিক দিয়ে হুমকি দেয়ার পর, তাতেও কাজ না হলে পরে চা অফার দিয়ে ফোন নাম্বার চায়। পরে যোগাযোগের আশ্বাসে নানা ছলচাতরির আশ্রয় নেয়। তাতে বুঝতে বাকি থাকে না যে, কারখানায় ব্যবহৃত অবৈধ গ্যাস লাইনের ঘটনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাসের এক ঠিকাদার বলেন, আমাদের মাধ্যমে এসব অবৈধ সংযোগ নেয়া হয়।বসদের ম্যানেজ করে এসব সংযোগ দিয়ে থাকি। টাকার ভাগ বসদের পকেটেও যায়। তবে ‘বস’ কারা তা বলতে রাজি হননি তিনি।

এ বিষয়ে সত্যতা জানতে আঞ্চলিক দায়িত্বে থাকা তিতাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে