তাহাজ্জুদের নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত

ঢাকা, শনিবার   ৩০ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭,   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তাহাজ্জুদের নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩১ ৪ মে ২০২০   আপডেট: ২১:৩৫ ৪ মে ২০২০

সূরা আল ফাতিরের ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কোরআন পাঠের ব্যাপারে বলেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব (কোরআন) পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার, যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’

সূরা আল ফাতিরের ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কোরআন পাঠের ব্যাপারে বলেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব (কোরআন) পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার, যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’

আরবি হিজরি সনের অন্য ১১টি মাসের তুলনায় পবিত্র রমজান মাস শ্রেষ্ঠ মাস। এটি একটি ইবাদতের মাস। প্রতি বছরই রহমত, বরকত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে রমজান আমাদের মাঝে আগমন করে।

পবিত্র সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের প্রবৃত্তিকে দলন করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক মহান বার্তা বহন করে মাহে রমজান। যত বেশি নেক আমল করে নিজেকে আখেরাতের জন্য প্রস্তুত করা যায়, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যই রমজানের আগমন।

কিন্তু এই মহান নিয়ামতের কতটা হক আমরা আদায় করতে পেরেছি! সিয়াম সাধনা বা দিনের বেলা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়, নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা, একটি শৃঙ্খলার আবর্তে নিজেকে নিয়োজিত করাও এই মাসের কাজ। আল্লাহর নির্ধারিত বিধান রোজা রাখা, সেহরি করা, ইফতার করা, তারাবি নামাজ আদায়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ বা উৎসাহ জোগানোই আজকের এই লেখা।

চলুন তাহলে কোরআন-হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ আরো দুই আমল সম্পর্কে জেনে নিই-  

কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ নামাজ) আদায় : 

পবিত্র কোরআনুল কারিমের সূরা মুয্যাম্মিলে ইরশাদ হচ্ছে- তোমরা রাত্রি জাগরণ করো, কিছু অংশ ব্যতীত। অর্ধরাত্রি বা তার চেয়ে কম অথবা তার চেয়ে অধিক। এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, রাতে ইবাদত করার ব্যাপারে কোরআন বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। সেহরি করা, ইফতার করা, তারাবি নামাজ আদায় করা যেহেতু রাতেই হয়ে থাকে, সুতরাং রাতের বেলা তাহাজ্জুদ আদায় করাও অন্যতম ইবাদত।

রাসূল (সা.) আরো বলেছেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ রমজান মাসের রোজা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। আর আমি তোমাদের জন্য নিয়ম করেছি এ মাসের কিয়ামুল লাইল বা রাত্রিকালীন ইবাদতকে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ণ ঈমান সহকারে এবং গুনাহ মাফের আশায় এ মাসে রোজা রাখে ও কিয়ামুল লাইল আদায় করে, তাহলে সে এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেমন মা তার নিষ্পাপ সন্তানকে প্রসব করেন। তিনি আরো বলেন- যে ব্যক্তি রমজান মাসে পূর্ণ ইমান সহকারে ও গুনাহ মাফের আশায় কিয়ামুল লাইল করবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। এ মাসে রাসূল (সা.) নিজেও কিয়ামুল লাইল নামাজ আদায় করেছেন এবং আমাদেরও তা করতে বলেছেন।

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল পালন করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশা নিয়ে রমজান মাসে কিয়াম করবে (রাতের বেলায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে) তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল নামাজ আদায়ের অপর একটি ফজিলত হচ্ছে, এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে আর যে ব্যক্তি পূর্ণ রমজান কিয়ামুল লাইলে কাটাবে সে অবশ্যই ভাগ্য রজনী লাইলাতুল কদর পাবে। সুতরাং আমরা যারা রোজাদার, পুরুষ বা নারী তারা একাকী কিংবা জামায়াতের সঙ্গে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ নামাজ) মসজিদ বা বাসাবাড়িতে আদায় করতে পারি। প্রতিদিন ১২ রাকাত নামাজ আদায় সম্ভব না হলেও অন্তত ৪ রাকাত বা ৮ রাকাত নামাজ আদায় করার অভ্যাস আমাদের করা দরকার।

বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা : 

রমজান মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করা। সহিহ শুদ্ধভাবে কোরআন পড়ার অভ্যাস করা। হাদিস শরিফে বর্ণিত হচ্ছে- ‘আফদ্বলুল ইবাদাতি তেলাওয়াতিল কোরআন।’ অর্থাৎ ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হলো কোরআন তেলাওয়াত করা। নামাজের মধ্যে যেমন কোরআন তেলাওয়াত করা আবশ্যক, নামাজের বাইরেও ভালোভাবে কোরআনকে বোঝার জন্য তেলাওয়াত করা জরুরি। রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। এই মাসেই কোরআনের সঙ্গে মহব্বত তৈরি করা, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, দেখে দেখে পড়া, অর্থসহ পড়ে বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। রমজান মাসের এই মহান সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য একবার যদি কোরআন খতম দেয়া যায় অথবা অন্তত একটি পারাও যদি অর্থসহ পড়া যায়, তা কতই না ভালো আমল।

সূরা আল ফাতিরের ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কোরআন পাঠের ব্যাপারে বলেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব (কোরআন) পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার, যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’ এ ব্যাপারে হাদিস শরিফের বর্ণনায় আরো পাওয়া যায়, ‘যে মুমিন কোরআন তেলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত কমলালেবুর মতো, যা সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। আর যে মুমিন কোরআন তেলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মতো, যার ঘ্রাণ নেই, কিন্তু মিষ্টি।’

আবু উমামা বাহেলী (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাসূলুলাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘তোমরা কোরআন তেলাওয়াত করো। কারণ, কোরআন কেয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে।’

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে